রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য নৃসংশতার সংঘটিত হওয়ার আলামত পাওয়ার কথা জানিয়ে প্রথম বারের মতো মিয়ানমার সেনাবাহিনী স্বীকার করেছে যে, রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সত্যি সত্যিই নিপীড়ন হয়েছে। দেশটির সেনাবাহিনীর একটি অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত একটি বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে, রাখাইন রাজ্যে ২০১৭ সালের আগে-পরে সংঘটিত ‘বিস্তৃত আকারে নিপীড়নের ঘটনা’ তদন্ত করছে তারা।
সম্প্রতি মিয়ানমারের দুই সেনাসদস্য উত্তর রাখাইনে বেশ কয়েক জন গ্রামবাসীকে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন। যখন তারা দ্য হেগের আন্তর্জাতিক আদালতে সাক্ষ্য দেবেন বলে শোনা যাচ্ছে, ঠিক সেই সময় মিয়ানমার সেনাবাহিনী সম্ভাব্য নিপীড়নের স্বীকারোক্তি দিয়ে তদন্তের কথা জানাল। রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যা চালানোর দায়ে ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) অভিযুক্ত হয়েছে মিয়ানমার। ভবিষ্যত্ প্রসিকিউশনে ব্যবহারের জন্য মিয়ানমারে সংঘটিত আন্তর্জাতিক অপরাধের আলামত সংগ্রহ করতে ২০১৮ সালে ইন্ডিপেনডেন্ট ইনভেস্টিগেটিভ মেকানিজম অন মিয়ানমার (আইআইএমএম) প্রতিষ্ঠা করে জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিল। এতদিন ধরে মিয়ানমার বরাবরই গণহত্যার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। দেশটির দাবি, পুলিশ পোস্টে হামলাকারী জঙ্গিদের বিরুদ্ধে বৈধ অভিযান চালিয়েছে সশস্ত্র বাহিনী।
তবে মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে মিয়ানমার সেনাবাহিনী রাখাইনে বড় আকারে নিপীড়ন সংঘটিত হওয়ার কথা স্বীকার করেছে। তারা বলেছে, গণহত্যা সংঘটিত হওয়ার যে অভিযোগ উঠেছে তার তদন্ত আরো বিস্তৃত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।—আলজাজিরা
