আর্থিক প্রতিবেদনে স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে :এনবিআর চেয়ারম্যান

আপডেট : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২০:৪৫

বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও কোম্পানি কর্তৃক দাখিলকৃত নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনে স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম। তিনি বলেন, অনেকে হয়তো প্রতিবাদ করবেন, কিন্তু আর্থিক প্রতিবেদনের ক্ষেত্রে এটি হচ্ছে। অসত্য প্রতিবেদন নানা ধরনের অপরাধ তৈরি করে। আর্থিক প্রতিবেদনে স্বচ্ছতার অভাব দূর করা দরকার। গতকাল বৃহস্পতিবার  হিসাববিদদের প্রতিষ্ঠান আইসিএবি আয়োজিত এক অনলাইন সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনের ডকুমেন্ট যাচাই পদ্ধতি ও বিশ্বাসযোগ্যতা’ শীর্ষক ঐ ভার্চুয়াল সম্মেলনে বিপুলসংখ্যক সনদধারী হিসাববিদ অংশ নেন।

দীর্ঘদিন ধরেই ভুয়া অডিট রিপোর্ট নিয়ে কথা বলে আসছে এনবিআর। এই ধরনের ভুয়া প্রতিবেদন দাখিলের কারণে এনবিআর সঠিক রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অন্যদিকে একই প্রতিষ্ঠান ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে অডিট রিপোর্টে কোম্পানির আর্থিক অবস্থা প্রকৃত অবস্থার চাইতে ভালো দেখিয়ে বেশি ঋণ পেতে সহায়তা করে। এ সমস্যা সমাধানে অনলাইনে ডকুমেন্ট যাচাই বা ডিভিএস পদ্ধতি চালু করতে যাচ্ছে আইসিএবি। এই পদ্ধতি চালু হলে যে কোনো প্রতিবেদন কোন নিরীক্ষকের স্বাক্ষরে জমা দেওয়া হয়েছে তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাই করার সুযোগ থাকবে। এর ফলে ভুয়া অডিট রিপোর্ট জমা দেওয়ার সুযোগ কমে যাবে। এ বিষয়টি সম্পর্কে আইসিএবির সদস্য হিসাববিদদের ধারণা দিতে গতকাল ঐ ভার্চুয়াল সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

এতে সভাপতিত্ব করেন আইসিএবির সাবেক প্রেসিডেন্ট হুমায়ূন কবীর। এ সময় বক্তারা ভুয়া আর্থিক প্রতিবেদন স্বাক্ষর করার ইস্যুটি তোলেন। তারা বলেন, অনেকদিন ধরে একটি বদনাম বয়ে বেড়াতে হচ্ছে। তা হলো একই কোম্পানির একই ইস্যুতে দুই তিনটি রিপোর্টে একই অডিটরের স্বাক্ষর। এর কিছুটা নিশ্চয়ই সত্য। অনেক সময় নিরীক্ষক নিজেও জানেন না, তার স্বাক্ষর করা প্রতিবেদন জমা দেওয়া হচ্ছে।

এই সমস্যা সমাধানে ডিভিএস বা ডকুমেন্ট যাচাই পদ্ধতি ভালো ফল দেবে। এর ফলে আয় কম দেখিয়ে রাজস্ব ফাঁকি কিংবা বেশি দেখিয়ে ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে খেলাপি হওয়ার সুযোগ কমে যাবে। ডিভিএস ব্যবস্থা কীভাবে কাজ করবে, এ বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন আইসিএবির ভাইস প্রেসিডেন্ট  মোহাম্মদ ফোরকান উদ্দিন। এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন এনবিআর সদস্য মো. আলমগীর হোসেন, এনবিআরের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেলের (সিআইসি) পরিচালক শব্বির আহমদ প্রমুখ।

প্রসঙ্গত, বছরে প্রায় ৩৫ হাজার কোম্পানি আয়কর বিভাগে তাদের আর্থিক বিবরণী জমা দেয়। এসব আর্থিক বিবরণী স্বীকৃত হিসাববিদদের (চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্ট বা অডিট ফার্ম) মাধ্যমে নিরীক্ষিত হতে হয়। এসব অডিট ফার্ম আইসিএবির নিবন্ধিত। কিন্তু আইসিএবির হিসাবে, তাদের সদস্যভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো ১৬ হাজারের মতো অডিট রিপোর্ট দিয়ে থাকে। আয়কর বিভাগ মনে করছে, বাদবাকি নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী সঠিক নয় কিংবা ভুয়া।