চীনকে চাপে রাখতে তাইওয়ানে অস্ত্র বিক্রি বাড়ানোর পথে যুক্তরাষ্ট্র

আপডেট : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২০:৫২

তাইওয়ানের কাছে মাইন, ক্রুজ মিসাইল ও ড্রোনসহ অন্তত সাত ধরনের সমরাস্ত্র বিক্রি বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। চীনের ওপর ট্রাম্প প্রশাসনের চাপ বাড়তে থাকার মধ্যে এ পরিকল্পনা চলছে। বিষয়টি সম্পর্কে ওয়াকিবহাল চার কর্মকর্তা এ কথা জানিয়েছেন। তবে, তাদের কেউ নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি।

তাইওয়ানের কাছে একবারে এত ধরনের অস্ত্র বিক্রির ঘটনা বেশ বিরল। তাইওয়ানের সঙ্গে সুসম্পর্ক থাকলেও বেইজিংয়ের সঙ্গে উত্তেজনা কমিয়ে রাখতে যুক্তরাষ্ট্র বরাবরই এ বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করে। চীন তাইওয়ানকে তাদের বিচ্ছিন্ন প্রদেশ বলে বিবেচনা করে এবং কখনোই তাইওয়ানের অধিকার ছাড়বে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চীনের সম্পর্কে উত্তেজনা বেড়েছে। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যযুদ্ধ তো চলছেই। এছাড়াও ট্রাম্প অনেক দিন ধরে চীনের বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তি অভিযোগ করছেন। বিশ্ব জুড়ে নতুন করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়া নিয়েও দুই দেশের মধ্যে কথার লড়াই চলছে। চীনের উহান শহর থেকেই সারা বিশ্বে করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে। ট্রাম্পের অভিযোগ, করোনা ভাইরাসের ভয়াবহতা নিয়ে চীন তথ্য গোপন করেছে এবং এই ভাইরাসের বিস্তার রোধে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। শুধু তাইওয়ান নয়, ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রের সব মিত্রের কাছেই অস্ত্র রপ্তানি বাড়াতে চাইছে। যাতে দেশগুলোর নিজেদের সুরক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনীর ওপর নির্ভরশীলতা কমে এবং একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলোর অস্ত্র বিক্রি, ব্যবসা এবং দেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ে।

আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনেও ট্রাম্প এবং তার দল রিপাবলিকান পার্টির সমর্থকরা বেইজিংয়ের বিরুদ্ধে তাদের অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে ভোটারদের মন গলাতে চাইছেন। তাদের দাবি, ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রেসিডেন্ট প্রার্থী জো বাইডেন চীনের প্রতি নমনীয় আচরণ করেন। আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। এত গেল ট্রাম্প প্রশাসনের হিসাব। ওদিকে, তাইওয়ানও নিজেদের প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে আরো শক্তিশালী করতে অস্ত্র কেনার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।