দুটি ব্যতিক্রমী আসর বাদ দিলে আইপিএলের দলগুলো দেশের মাটিতে খেলেই অভ্যস্ত। সেখানে নিজেদের একটা হোম ভেন্যু থাকে। কমপক্ষে অর্ধেক ম্যাচ তারা নিজেদের মাঠে খেলে। পরিষ্কার ধারণা থাকে যে, কী করতে হবে। কিন্তু এবার করোনা ভাইরাসের মহামারিতে আবারও প্রবাসে হবে আইপিএল।
আবুধাবিতে আগামীকাল মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স ও চেন্নাই সুপার কিংসের খেলা দিয়ে শুরু হবে এবারের আরব আমিরাতে আইপিএল আসর। আর এই আসরে অনেক অনভ্যস্ত ব্যাপারের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে দলগুলোকে।
প্রথমেই আসবে হোম ও অ্যাওয়ে ম্যাচের ব্যাপারটা। আইপিএলের সূচি অনুযায়ী প্রতিটি দল নিজেদের হোমে সাতটি করে ম্যাচ খেলে গ্রুপপর্বে। আর এই সাত ম্যাচই আসলে তাদের পরের ধাপে যাওয়ার প্রধান শক্তি জোগায়। এবার এই হোম ম্যাচগুলোর কী হবে?
হ্যাঁ, এবারও দলগুলোর এক ধরনের হোম ম্যাচ থাকছে। রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরু, দিল্লি ক্যাপিটালস, চেন্নাই সুপার কিংস, সানরাইজার্স হায়দারাবাদ, কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব ও রাজস্থান রয়্যালস তাদের অর্ধেকের মতো ম্যাচ খেলবে দুবাইতে। কলকাতা নাইট রাইডার্স আর মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স আটটি করে ম্যাচ খেলবে আবুধাবিতে। কিন্তু সমস্যা হলো, হোম ম্যাচের সুবিধাটা খুব একটা পাবে না দলগুলো। কারণ একই হোম অনেকের হওয়াতে, প্রতিপক্ষের পরিচিত থাকবে কন্ডিশন।
দলগুলোর সামনে একটা বড় চ্যালেঞ্জ থাকবে, তারা রান তোলার ক্ষেত্রে কী কৌশল নেবে। ঐতিহ্যগতভাবে ভারতের ভেন্যুগুলোতে আরব আমিরাতের চেয়ে অনেক বেশি রান হয়। শুধু রান ওঠার গতি বেশি, তা নয়; ছন্দটাও ভিন্ন। আরব আমিরাতে পাকিস্তান সুপার লিগের ম্যাচগুলোতে গড়ে ১৮০-এর কাছাকাছি রান ওঠে। ভারতে এর চেয়ে অনেক বেশি রান হয় প্রায় সব ভেন্যুতে। আন্দ্রে রাসেল, হারি্দক পান্ডিয়া, রোহিত শর্মার হোম ভেন্যুতে প্রতি ১৭ বলে একটা করে ছক্কা হয়েছে গত তিন মৌসুমে। সেখানে আবুধাবিতে প্রতি ৪৯ বলে একটা করে ছক্কা হয়েছে গত তিন পিএসএলে। শারজাহ ছাড়া বাকি দুই ভেন্যুতে দৌড়েই বেশি রান নিতে হবে।
আরব আমিরাতে খুব কম ব্যাটসম্যানই বেশি স্ট্রাইকরেটে খেলে থাকেন। গত তিন পিএসএলে ১০ বল বা তার বেশি খেলেছেন, এমন ব্যাটসম্যানের ইনিংস স্ট্রাইক রেট ২০০-এর ওপরে ছিল মাত্র ২৮টি। সেখানে আইপিএলে এমন ইনিংস গত তিন আসরে ছিল ১২৭টি!
