শ্রাবণ-ভাদ্র মৌসুমে নদীতে সাধারণত প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ে। কিন্তু এবার ভোলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে প্রত্যাশা অনুযায়ী ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে না। এতে জেলেরা পড়েছেন চরম বিপাকে। যদিও মত্স্য বিভাগ এ বছর ভোলা জেলায় ইলিশ আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে ১ লাখ ৬৫ হাজার মেট্রিক টন।
ভোলার সিনিয়র মত্স্য কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এমনটা হচ্ছে। তিনি জানান, চলতি আশ্বিন মাসে ভোলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়ায় কাঙ্ক্ষিত ইলিশ পাওয়া যেতে পারে। জেলে সিরাজ উদ্দিন জানান, তারা দুই দিনে যে ইলিশ মাছ পেয়েছেন তা দিয়ে তাদের পোষায়নি। কিন্তু গত বছর এই সময়ে অনেক ইলিশ পেয়েছেন। ভরপুর ইলিশ না পাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন তারা।
ইলিশা মত্স্য ঘাটের আড়তদার ইমন জানান, ‘তাদের এই ঘাটে গত বছর এই সময় প্রতিদিন ৪০০ থেকে সাড়ে ৪০০ মণ ইলিশ মাছ ক্রয় করে বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হতো। কিন্তু এ বছর এখন প্রতিদিন ৮০/৯০ মণ ইলিশ ক্রয় করে ঢাকাসহ বিভিন্ন মোকামে পাঠাচ্ছেন। আড়তদার সাহাবুদ্দিন জানান, ভোলার নদীতে জেলেরা চাহিদামতো ইলিশ না পাওয়ায় ভরা মৌসুমে ভোলায় তারা বেশি দামে মাছ ক্রয় করে। মনপুরার কলাতলির মত্স্যঘাটের আড়তদার মনির হাওলাদার জানান, তাদের এলাকার মেঘনা নদীতে ইলিশ কম ধরা পড়ায় তাদের আড়তে ইলিশ কম। তাই দাম বেশি।
ভোলা জেলা মত্স্য কর্মকর্তা এস এম আজহারুল ইসলাম জানান, ‘ইলিশের প্রধান মৌসুম শুরু হয়ে গেছে। সমুদ্রে ব্যাপকভাবে ইলিশ মাছ ধরা পড়ছে। অচিরেই মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে ইলিশ আসবে এবং জেলেদের জালে ধরা পড়বে। মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে কাঙ্ক্ষিত ইলিশ না পাওয়ার ব্যাপারে তিনি সুস্পষ্ট কিছু বলেননি। তবে তিনি বলেন, গত বছর ভোলায় ইলিশ আহরণে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ৬০ হাজার মেট্রিক টন। কিন্তু ইলিশ আহরিত হয়েছে ১ লাখ ৭০ হাজার মেট্রিক টন।
