সাম্প্রতিক সময়ে ফেনী জেলায় বিদেশগামী যাত্রীদের পাসপোর্ট আবেদনের হার ব্যাপকহারে হ্রাস পেয়েছে। করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের আগে যেখানে প্রতিদিন ৪০০ থেকে ৫০০ আবেদন জমা পড়ত, সেখানে বর্তমানে গড়ে প্রতিদিন ৩০/৪০টি আবেদন জমা পড়ছে।
সরেজমিনে ফেনী আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে গিয়ে দেখা যায়, অফিস ভবনটি এখন প্রায় জনশূন্য। সেখানে উপস্থিত এক জন পাসপোর্ট আবেদনকারী রহিম উল্যাহ জানান, গত জানুয়ারি মাস থেকে ফেনী জেলা আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে পাসপোর্ট সংকট ছিল। তখন পাসপোর্টের জন্য শত শত আবেদন জমা পড়েছিল। কিন্তু পাসপোর্ট সংকটের কারণে আবেদনকারীগণ সময়মতো পাসপোর্ট পাননি। এরই মধ্যে গত মার্চ মাস থেকে বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে বর্তমানে পাসপোর্টের জন্য কেউ আর আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। যার কারণে বর্তমানে পাসপোর্ট অফিসে কোনো ভিড় দেখা যাচ্ছে না।
এ ব্যাপারে ফেনী জেলা আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সহকারী পরিচালক মোক্তার হোসেন ইত্তেফাককে জানান, বিগত কয়েক মাস পাসপোর্টের যে সংকট ছিল, তা বর্তমানে সমাধান হয়ে গেছে। সরকার থেকে পাওয়া ফেনী জেলা আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের জন্য ৫ হাজার পাসপোর্ট মজুত রয়েছে। করোনা ভাইরাসের আগে যারা পাসপোর্টের আবেদন করেছিল, প্রায় ১ হাজার ৫০০ পাসপোর্ট বর্তমানে প্রস্তুত রয়েছে। কিন্তু কেউ পাসপোর্ট নিচ্ছেন না। ঐ কর্মকর্তা আরো জানান, এর প্রধান কারণ—করোনার প্রভাবে সারা বিশ্বে স্থবিরতা দেখা দেওয়ায় যারা পাসপোর্টের আবেদন করেছিল, তাদের মধ্যে বিদেশ যাওয়ার আগ্রহে ভাটা পড়ায় পাসপোর্ট আবেদন ও নতুন পাসপোর্ট গ্রহণের আগ্রহ কমেছে। তিনি জানান, করোনার আগে যেখানে প্রতিদিন ৪০০ থেকে ৫০০ আবেদন জমা পড়ত, সেখানে বর্তমানে গড়ে প্রতিদিন ৩০/৪০টি আবেদন জমা পড়ছে।
