কুমিল্লায় যাত্রীবাহী একটি বাসে এক তরুণী যাত্রীকে জোরপূর্বক আটকে রেখে চালক, হেলপার ও সুপারভাইজার মিলে গণধর্ষণ করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় বাসের চালক আরিফ হোসেন সোহেল ও হেলপার বাবু শেখকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে সুপারভাইজার আলম পলাতক রয়েছেন। গত মঙ্গলবার ভোরে পদুয়ার বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে রাতেই তিন ধর্ষকের বিরুদ্ধে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানায় গণধর্ষণের মামলা করেছেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানিয়ে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কমল কৃষ্ণ ধর বলেন, কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভুক্তভোগী তরুণীর ডাক্তারি পরীক্ষা ও আদালতে জবানবন্দি প্রদানের পর গত বুধবার রাতে তাকে তার মায়ের হেফাজতে দেওয়া হয়েছে। গ্রেফতারকৃত দুই ধর্ষককে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে আদালতে উপস্থাপন করা হয়। তবে শুনানি না হওয়ায় তাদের জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। মামলার অপর আসামি আলমকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
মামলার আসামিরা হলেন, সদর দক্ষিণ উপজেলার নেউরা গ্রামের শরীফ হোসেনের ছেলে বাসচালক আরিফ হোসেন সোহেল (২৬), ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা উপজেলার কামিনারবাগ গ্রামের শেখ ওয়াজেদের ছেলে হেলপার বাবু শেখ (২২) এবং কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার আটচাইল গ্রামের কবির মিয়ার ছেলে সুপারভাইজার আলম (৩২)।
তরুণীর পরিবার ও মামলার বিবরণে জানা যায়, কুমিল্লা ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার সাহেবাবাদ এলাকার ঐ তরুণী গত শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) ঢাকার আবদুল্লাহপুরে তার বোনের বাসায় যান। গত সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে বাড়ি ফেরার উদ্দেশ্যে সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল হতে ‘তিশা প্লাস’ পরিবহনের একটি বাসযোগে কুমিল্লা শহরের শাসনগাছার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন। কিন্তু বাসের চালকসহ আসামিরা ঐ তরুণীকে শাসনগাছা বাস স্টেশনে না নামিয়ে কৌশলে বাসটি পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকায় নিয়ে যান। সেখানে মঙ্গলবার ভোর ৪টার দিকে চালক, হেলপার ও সুপারভাইজার বাসটির দরজা-জানালা বন্ধ করে ঐ তরুণীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করেন। পরে চালক বাস থেকে নেমে গেলে হেলপার ও সুপারভাইজার তরুণীকে পদুয়ার বাজার এলাকায় বাবুর বাসায় নিয়ে পুনরায় ধর্ষণ করেন এবং সকাল ৬টার দিকে তাকে অসুস্থ অবস্থায় ঘর থেকে বের করে দেন। পরে তরুণী মোবাইল ফোনে তার মাকে ঘটনা জানান।
তরুণীর মা জানান, তার মেয়ে গাজীপুরের একটি গার্মেন্টসে চাকরি করত। করোনার কারণে সে পাঁচ মাস আগে বাড়ি চলে আসে। গত শুক্রবার চাকরির সন্ধানে বাড়ি থেকে ঢাকায় গিয়ে জ্যাঠাতো বোনের বাসায় ওঠে। সেখান থেকে বাড়ি ফেরার পথে এমন নিষ্ঠুর ঘটনার শিকার হয়। তিনি তার মেয়ের ওপর পাশবিক নির্যাতনকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
গতকাল দুপুরে বাসটির মালিক ‘তিশা প্লাস’ পরিবহন গ্রুপের এমডি দুলাল হোসেন অপু সাংবাদিকদের জানান, ‘ঢাকা মেট্রো-ব ১৫-৩৯৮ নম্বর গাড়ির চালক, হেলপার ও সুপারভাইজার এ ঘটনা ঘটিয়েছে জানার পর আমরা দুই জনকে ধরে পুলিশে সোপর্দ করেছি।’ পরিচালক বিমল দে জানান, ‘আমরা তাদের কঠোর শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।’
