চলতি বছরের ১৭ মার্চ ১৪ বছরের কিশোরী উম্মে কুলসুমকে ২৬ বছর বয়সি দেখিয়ে বিদেশ পাঠায় রাজধানীর ফকিরাপুলের এইচএম ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল নামের একটি রিক্রুটিং এজেন্সি। চার মাস আগে সৌদি আরবে গৃহকর্তা ও তার ছেলে মিলে কুলসুমের দুই হাঁটু, কোমর ও পা ভেঙে দেয়। এর কিছুদিন পর একটি চোখ নষ্ট করে রাস্তায় ফেলে দেয় তারা। গত ৯ আগস্ট চাকরির আশায় সৌদি আরবে গিয়ে নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়ে সেখানকার একটি হাসপাতালে ১৭ আগস্ট মারা যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার উম্মে কুলসুম। ১১ সেপ্টেম্বর রাতে কুলসুমের মরদেহ দেশে আনা হয়। এ ঘটনায় গ্রেফতার হয়েছে কুলসুমকে সৌদি পাঠানো রিক্রুটিং এজেন্সির মালিক মকবুল হোসাইন ও তার সহযোগী তারেক। গতকাল বৃহস্পতিবার র্যাব রাজধানীর ফকিরাপুলে ঐ রিক্রুটিং এজেন্সির কার্যালয়ে এক অভিযানে তাদের গ্রেফতার করে। অভিযানে নেতৃত্ব দেন র্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ কুমার বসু। গ্রেফতারকৃতদের পল্টন থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ কুমার বসু বলেন, সৌদি আরবে কাজের জন্য যাওয়া ন্যূনতম বয়স ২৫ হলেও কুলসুমের বয়স ছিল ১৫ বছরের নিচে। কিন্তু স্থানীয় দালাল ও এমএইচ ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের মালিক মকবুল হোসেনের প্ররোচনায় তার বয়স ২৬ বছর দেখিয়ে কুলসুমের পাসপোর্ট তৈরি করা হয়। সৌদি আরবে গিয়ে নারীকর্মী শারীরিক-মানসিক নির্যাতন ও শ্রম শোষণের শিকার হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে জানা সত্ত্বেও এমএইচ ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের মালিক এ বিষয়ে কুলসুমকে সতর্ক না করে প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে তাকে সৌদিতে পাচার করেন।
পলাশ বসু আরো বলেন, ফকিরাপুলের অফিসে অভিযান চালিয়ে আমরা ১০-১২ ভুক্তভোগীর অভিযোগপত্র পাই। এছাড়া এমএইচ ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের মালিকের বিরুদ্ধে ফতুল্লা থানায় মামলা রয়েছে। বর্তমানে সেই মামলা সিআইডিতে তদন্তাধীন। যেসব রিক্রুটিং এজেন্সি আইনের ব্যত্যয় করে মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত তাদের সবার বিরুদ্ধে ক্রমান্বয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
কে এই কুলসুম
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার নূরপুর গ্রামের শহিদুল ইসলামের মেয়ে উম্মে কুলসুমকে স্থানীয় দালাল রাজ্জাক মিয়ার মাধ্যমে ৩০ হাজার টাকা খরচ করে ১৭ মাস আগে মেসার্স এমএইচ ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের মাধ্যমে গৃহকর্মীর কাজে সৌদি আরব পাঠানো হয়। সেখানে গৃহকর্মী হিসেবে যোগদানের পর থেকেই কুলসুমের ওপর শারীরিক ও যৌন নির্যাতন শুরু করে মালিকপক্ষ। নির্যাতনের কারণে মেয়েকে ফিরিয়ে আনার জন্য রিক্রুটিং এজেন্সির সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করার পরও তাদের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
