পেঁয়াজ রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা

ভারতের ওপর চাপ বাড়ছে, আন্দোলনে মহারাষ্ট্রের চাষিরাও

আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০০:৩৬

বিদেশে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করার জন্য ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সোমবার আচমকা যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা প্রত্যাহার করার জন্য সে দেশটির সরকারের ওপর চাপ বাড়ছে। কূটনৈতিকভাবে যেমন বাংলাদেশ এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে নোট পাঠিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছে, তেমনি ভারতের ভেতরেও পেঁয়াজচাষি ও ব্যবসায়ীরা সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে একটানা আন্দোলন শুরু করেছেন।

মহারাষ্ট্রের সিনিয়র রাজনীতিবিদ ও এনসিপি দলের নেতা শরদ পাওয়ারও পেঁয়াজচাষিদের দাবিকে সমর্থন করছেন, ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েলকেও তিনি রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার আর্জি জানিয়েছেন। তবে বৃহস্পতিবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে মুখপাত্র পেঁয়াজ রপ্তানি নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।

বস্তুত ভারতের পেঁয়াজ অবাধে বাংলাদেশ কিংবা নেপাল-শ্রীলঙ্কায় রপ্তানি করতে দিতে হবে—এই দাবিতে চাষিরা রাস্তায় নেমেছেন। এমন ঘটনা স্মরণকালের মধ্যে ঘটেনি; কিন্তু ভারতের পেঁয়াজের প্রধান পাইকারি বাজার, নাসিকের কাছে লাসালগাঁওতে জাতীয় সড়ক অবরোধ করে মহারাষ্ট্রের পেঁয়াজচাষিরা গত তিন দিন ধরে ঠিক সেটাই করে যাচ্ছেন। রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার দাবিতে সেখানে স্লোগান দিচ্ছেন রাজ্যের পেঁয়াজচাষিরা, মহারাষ্ট্রে যাদের বলা হয় ‘কাণ্ডা শ্বেতকারী’।

কৃষক গঙ্গাধর শাঠে বিবিসিকে বলেন, স্বর্ণের ভরি ৫২ হাজার রুপি ছাড়িয়ে গেছে, মাংসের কেজি ৭০০ রুপির বেশি—তাতে কারো মাথাব্যথা নেই, আর পেঁয়াজের দাম ৫০ রুপি ছুঁতে না ছুঁতেই রপ্তানি বন্ধ করে দিতে হবে, এটা আবার কেমন কথা? আসলে করোনা ভাইরাস লকডাউনের প্রথম কয়েক মাসে মহারাষ্ট্রের পেঁয়াজচাষিরা তাদের ফলনের তেমন একটা দাম পাননি। পেঁয়াজ বিদেশে রপ্তানি হলে লাভের অঙ্কটাও বেশি হয়; কিন্তু এখন সেটা বন্ধ হয়ে যাওয়াতেই তারা সরকারের ওপর ক্ষুব্ধ।

মারাঠি অর্থনীতিবিদ মিলিন্দ মুরাগকরও বিবিসিকে বলেন, পেঁয়াজ রপ্তানি আটকে দিয়ে সরকার যেমন বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জনের পথ বন্ধ করে দিল, তেমনি গ্রামীণ অর্থনীতিরও বিপুল ক্ষতি করল।

ধারণা করা হচ্ছে, বিহারের আসন্ন নির্বাচনকে মাথায় রেখে পুরোপুরি রাজনৈতিক কারণেই ভারত সরকার রপ্তানি বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে,  যাতে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে পেঁয়াজের দাম নাগালে রাখা যায়। তবে সেই নিষেধাজ্ঞা থেকে বাংলাদেশ যাতে ছাড় পেতে পারে সে জন্য ঢাকার কূটনৈতিক তত্পরতাও অব্যাহত রয়েছে।

নিষেধাজ্ঞা যাতে পুনর্বিবেচনা করা হয়, সে জন্য গত ৭২ ঘণ্টায় দিল্লিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মুহাম্মদ ইমরানও ভারতের শীর্ষ সরকারি পর্যায়ে নানা মহলেই কথাবার্তা বলেছেন, আর তাতে কিছুটা ইতিবাচক সাড়াও পাওয়া গেছে বলে আভাস দেওয়া হয়েছে।