নারায়ণগঞ্জে স্কুলছাত্রীর ফিরে আসা নিয়ে রিভিশন মামলার আদেশ ২৪ সেপ্টেম্বর

আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০০:৪৫

নারায়ণগঞ্জে ধর্ষণ ও হত্যার শিকার স্কুলছাত্রীর জীবিত ফিরে আসার ঘটনায় দায়েরকৃত রিভিশন মামলার ওপর ২৪ সেপ্টেম্বর আদেশের জন্য দিন ধার্য করেছে হাইকোর্ট। এসংক্রান্ত শুনানি শেষে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল বৃহস্পতিবার এই আদেশ দেন। শুনানির এক পর্যায়ে আদালত বলেন, অপরাধ সংঘটনের পর আসামি গ্রেফতার করেই তাকে অপরাধী আখ্যা দিয়ে মিডিয়ার সামনে হাজির করা হয়। কিন্তু পরবর্তীকালে যদি দেখা যায় বিচারে ঐ লোকটি নিরপরাধ প্রমাণিত হয়েছেন তখন তার সামাজিক মর্যাদা কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়। এজন্য এসব বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সতর্ক থাকতে হবে। আদালত বলেন, তদন্তকালে মামলার বিষয়বস্তু নিয়ে টক শো করাটাও অনুচিত। এতে বিচার প্রভাবিত হতে পারে।

‘?ধর্ষণের পর নদীতে মরদেহ ফেলে দেওয়া স্কুলছাত্রী ৪৯ দিন পর জীবিত প্রত্যাবর্তন’ শিরোনামে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের ভিত্তিতে হাইকোর্টে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৬১(ক) ধারায় রিভিশন মামলা করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. শিশির মনির। আবেদনে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় করা মামলা এবং মামলাপরবর্তী প্রক্রিয়ার শুদ্ধতা, বৈধতা এবং যৌক্তিকতা সম্পর্কে প্রশ্ন তোলা হয়। পাশাপাশি সেই মামলায় গ্রেফতারকৃত আসামিদের রিমান্ড ও স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি আদায়ের প্রক্রিয়া নিয়ে যথাযথ আদেশ দেওয়ার জন্য আদালতে আবেদন জানানো হয়। ঐ আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মামলার নথি নিয়ে বর্তমান তদন্ত কর্মকর্তাসহ সাবেক তদন্ত কর্মকর্তা শামীম আল হোসাইন আদালতে হাজির হন।

শুনানিতে শিশির মনির বলেন, পুলিশ নির্যাতন করে ও ভয়ভীতি দেখিয়ে জবানবন্দি আদায় করে। নইলে যেখানে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা ঘটেনি সেখানে কীভাবে আসামিরা ঘটনার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিলো। মামলার সাবেক তদন্ত কর্মকর্তা এসআই শামীম আল হোসাইনের কৌঁসুলি অ্যাডভোকেট মনসুরুল হক চৌধুরী বলেন, আসামিরা গ্রেফতারের পর পুলিশ হেফাজতে ছিল। পরে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। যদি পুলিশ নির্যাতন করে জবানবন্দি আদায় করত তাহলে তা ম্যাজিস্ট্রেটকে বলার সুযোগ ছিল। সেখানেও আসামিরা কিছু বলেনি। সেক্ষেত্রে তদন্তকারী কর্মকর্তার দায় কোথায়?