সতীর্থ রহমান
বিশ্বজুড়ে যোগাযোগব্যবস্থায় যুগান্তকারী বিপ্লব এনেছে ইন্টারনেট। অসংখ্য নেটওয়ার্কের সমন্বয়ে গঠিত বিশ্বব্যাপী বৃহত্ কম্পিউটার নেটওয়ার্ক। পৃথিবীর যে কোনো জায়গায় ইন্টারনেট চোখের পলকে কোনো তথ্য পাঠিয়ে দেয় বা এনে দেয়। ইন্টারনেটকেন্দ্রিক অনলাইন গণমাধ্যম এখন বেশ জনপ্রিয়। অনলাইন গণমাধ্যম অনেক সময় গুজব ছড়ায়। গুজবে কান দেবেন না। ফোন, ফেসবুক, ইন্টারনেট, প্রযুক্তির মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে ভবিষ্যত্ প্রজন্ম বিকলাঙ্গ হয়ে যেতে পারে। প্রযুক্তির যুগে প্রযুক্তির ব্যবহার থেকে দূরে থাকার কোনো উপায় নেই। যোগাযোগের জন্য একে ব্যবহার করতেই হবে। কিন্তু কীভাবে এর সঠিক ও ফলপ্রসূ ব্যবহার করা যাবে—এই শিক্ষা থাকা উচিত। সৃজনশীলতা থেকে উদ্ভাবনী চিন্তা আসে। আর তাই কম্পিউটারের সামনে বসে যন্ত্র হয়ে যাওয়ার কিছু নেই, সেটার নিয়ন্ত্রিত ব্যবহার প্রয়োজন।
প্রাথমিক স্তরে গত্বাঁধা তাত্ত্বিক শিক্ষার বদলে জীবনঘনিষ্ঠ কর্মমুখি শিক্ষা চালু করা এখন যুগের দাবি। বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে দরকার বৃত্তিমূলক শিক্ষায় শিক্ষিত লাখ লাখ কর্মঠ, উদ্যোগী যুবক। কৃষিতে, কুটিরশিল্পে, বৃহত্ শিল্পে, তথ্যপ্রযুক্তিতে সর্বত্র উত্পাদন ও সেবার মান বৃদ্ধি এবং উন্নয়নের জন্য চাই বৃত্তিমূলক শিক্ষা। আধুনিক বিশ্বে টিকে থাকতে হলে তত্ত্বীয় শিক্ষার সঙ্গে প্রায়োগিক, প্র্যাকটিক্যাল, ইন্টার্নশিপ যেমন: ফিল্ড ওয়ার্ক, প্রজেক্ট ওয়ার্ক, গার্ডেনিং, গ্রুপ ডিসকারশন, রিপোর্টিং, ডায়েরি লেখা, জেনারেল নলেজ ইত্যাদি বিষয় বাধ্যতামূলক করা প্রয়োজন। হাইটেক বা অতিউন্নত প্রযুক্তির যুগে কোমলমতি শিশুদের কর্মমুখি ও জুতসই প্রযুক্তির শিক্ষা দেওয়া একান্ত প্রয়োজন। উন্নত দেশে শিক্ষা মানেই কাজ, চাকরি। তারা জীবন ও জীবিকার প্রয়োজনে উপযোগী শিক্ষা লাভ করছে। তাদের পেশাভিত্তিক কারিগরি শিক্ষাই কাজের দিশা দেয়। প্রয়োগভিত্তিক শিক্ষা লাভের অভাবে আমাদের ছাত্ররা নিজের বা দেশের উন্নয়নে অবদান রাখতে ব্যর্থ হচ্ছে। মহাবিজ্ঞানী আইনস্টাইন বলেছেন, ‘জ্ঞানের চেয়ে বড় হচ্ছে কল্পনাশক্তি’। যার কল্পনাশক্তি নেই, তাদের এই পৃথিবীতে দেওয়ার কিছুই নেই। আমাদের দেশের শিক্ষাব্যবস্থা শিশুর কল্পনাশক্তিকে নষ্ট করে দিচ্ছে। শিশুর সুপ্ত প্রতিভা, সৃজনশীলতা, চিন্তাচেতনা, ধ্যানধারণা, উদ্ভাবনী ক্ষমতা ও কল্পনাশক্তিকে কাজে লাগাতে পারলে সুখী সমৃদ্ধ জ্ঞানভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন অনেকটা সফল হবে।
বিশ্বায়ন ও অবাধ তথ্যপ্রযুক্তির যুগে মানুষের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই গণমাধ্যমের কোনো না কোনো ভূমিকা রয়েছে। মানব সভ্যতার অগ্রগতিতে প্রযুক্তি এবং সাহিত্য-সংস্কৃতি বিভিন্ন মিডিয়ার মাধ্যম হয়েছে। জনগণকে সচেতন করার দায়িত্ব মিডিয়ার। জনগণের বাক স্বাধীনতা বিকাশে মিডিয়ার ভূমিকা অপরিসীম। মিডিয়া সরকারসহ বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর সমালোচনা করে তাদের আরো সংশোধনের সুযোগ তৈরি করে দেয়। মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব বিকাশে গণমাধ্যমকে আরো শক্তিশালী ভূমিকা পালন করতে হবে। রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে গণমাধ্যমই পারে নিপীড়িত নির্যাতিত মানুষের পাশে দাঁড়াতে। রাষ্ট্রের সবগুলো প্রতিষ্ঠান ব্যর্থ বা নিষ্ক্রিয় হয়ে গেলেও মানুষের শেষ আশ্রয়স্থল হিসেবে যে প্রদীপশিখাটি জ্বলতে থাকে তা হলো গণমাধ্যম। উন্নত সমৃদ্ধ আধুনিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রায় এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে হলে প্রাথমিক শিক্ষাকে ঢেলে সাজাতে হবে। পুঁথিগত মুখস্থবিদ্যার বেড়াজাল থেকে বেরিয়ে হাতে কলমে দক্ষতা অর্জনের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে বেশি। আনুষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি জ্ঞান, শৃঙ্খলা ও ঐক্যের মন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে গভীর দেশপ্রেম, জনগণের প্রতি ভালোবাসা, কর্তব্য নিষ্ঠা এবং অব্যাহত প্রচেষ্টার মাধ্যমে অগ্রসর হতে হবে। বিজ্ঞান শিক্ষার অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষা বিস্তারের ক্ষেত্রে গণমাধ্যমগুলোর ভূমিকা ক্রমেই বিশেষ অর্থবহ হয়ে উঠেছে। ভবিষ্যতে শিক্ষাকে সর্বজনীন ও সহজলভ্য করার ক্ষেত্রে গণমাধ্যমগুলো আরো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে সন্দেহ নেই।
দিনাজপুর
