অর্থনীতিতে আশার আলো

আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২২:০৭

মোতাহার হোসেন

 

গত ১৫ সেপ্টেম্বর এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) করোনার মধ্যেই সরকারের সোয়া লাখ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজসহ নানা কর্মসূচির কারণে চলতি অথবছরে জিডিপি ৬.৮ শতাংশ অর্জিত হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে। সরকার গৃহীত প্রণোদনা প্যাকেজ এবং এর যথাযথ বাস্তবায়নের কারণে এর সুফল এরই মধ্যে মানুষ পেতে শুরু করেছে। 

স্থানীয় এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সূচকেও বাংলাদেশের অর্থনীতিকে শক্ত, সবল এবং নিয়ত গতিশীল, ঊর্ধ্বমুখি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। মূলত রপ্তানি আয়ে প্রবৃদ্ধি, রির্জাভ আর রেমিটেন্স বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হচ্ছে প্রবাসীদের প্রেরিত রেমিটেন্সের ওপর ২ শতাংশ হারে এবং পণ্য রপ্তানি আয়েও প্রণোদনা প্রদান। রেমিটেন্সের ওপর প্রণোদনা প্রদানে প্রবাসীরা বৈধ চ্যানেল ব্যবহার করায় রির্জাভ, রেমিটেন্স দুটোই সমান হারে বাড়ছে ক্রমাগত। এটি দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে যথেষ্ট সহায়ক ভূমিকা রাখছে।

সম্প্রতি উন্নয়ন সহযোগী এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) কর্তৃক প্রকাশিত ত্রৈমাসিক প্রতিবেদন এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুকের সেপ্টেম্বর আপডেটে ইতিবাচক তথ্য উঠে এসেছে। বলা হয়, ‘প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস মহামারির ধাক্কা সামলে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে। চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উত্পাদন (জিডিপি) ৬ দশমিক ৮ শতাংশ বাড়তে পারে বলে প্রাক্কলন করেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক-এডিবি। আর সরকারের পক্ষ থেকে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বরাবরই বলে আসছেন বছরান্তে জিডিপি ৮ শতাংশ  অর্জিত হবে। তবে এই পূর্বাভাসের ক্ষেত্রে মহামারিকেই সবচেয়ে বড় ঝুঁকি বলে মনে করছে এডিবি। অর্থাত্ বাংলাদেশে কিংবা বাংলাদেশের রপ্তানিপণ্যের গন্তব্য দেশগুলোতে মহামারি দীর্ঘায়িত হলে ৬ দশমিক ৮ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব নাও হতে পারে। তারা বলছে, উত্পাদনের গতি বাড়ায় এবং বাংলাদেশি পণ্যের ক্রেতা দেশগুলোতে প্রবৃদ্ধি বাড়তে থাকায় বাংলাদেশের অর্থনীতি ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। এই ধারা অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশ ২০২১ সালে মূল্যস্ফীতিকে ৫ দশমিক ৫ শতাংশে এবং চলতি হিসাবের (কারেন্ট অ্যাকাউন্ট) ঘাটতিকে জিডিপির ১ দশমিক ১ শতাংশের মধ্যে বেঁধে রাখতে পারবে।

এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর মনমোহন প্রকাশ বলেন, ‘রেমিটেন্স ও রপ্তানি আয়ের উন্নতি দেখে আমরা উত্সাহ পাচ্ছি। আশা করছি, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের এই ধারা টেকসই হবে। আর তা করা গেলেই প্রাক্কলিত জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব হবে।’ সেইসঙ্গে করোনার টিকা যদি আগে পাওয়া যায় এবং মহামারিতে স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার ওপর যে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, তা যদি অব্যাহত রাখা হয়, তাহলে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের এই ধারাকে টেকসই করতে ‘সহায়ক হবে’ বলে মনে করছেন তিনি। একইসঙ্গে কর্মরত মানুষের দক্ষতা উন্নয়ন এবং সামাজিক সুরক্ষা জোরদারে আরো সংস্কারমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ যথাযথভাবে কাজে লাগানো গেলে সম্ভাবনার দ্বার প্রসারিত হবে। প্রত্যাশা থাকবে—করোনাকালে মানুষের জীবন, জীবিকা স্বাভাবিক এবং কর্মসংস্থান ও অর্থনীতির চাকা বেগবান করতে প্রত্যেকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখবেন। তাহলেই সম্ভব বৈশ্বিক মহামারি করোনা যুদ্ধে জয়ী হয়ে দেশকে স্বস্তির জায়গায় রাখা।

ঢাকা