সদস্য দেশগুলোতে স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর কথা জানিয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। সেসঙ্গে করোনার কার্যকর ও নিরাপদ ভ্যাকসিন পেতে সদস্য দেশগুলোর উদ্যোগে সহায়তা করবে সংস্থাটি। এজন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করছে এডিবি। বোর্ড অব গভর্নরসের ৫৩তম বার্ষিক সভা শেষে সংস্থাটি এ তথ্য জানিয়েছে। বিশ্বব্যাপী করোনা পরিস্থিতির কারণে এবারের সভাটি ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে। দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত সভা গতকাল শুক্রবার শেষ হয়েছে। সভার বিষয়ে এক প্রেসবার্তায় সংস্থটি এ তথ্য উল্লেখ করেছে।
সভায় এডিবি প্রেসিডেন্ট মাসাটসুগু আসাকাওয়া বলেছেন, ‘করোনা ভাইরাসের প্রকোপ থেকে অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে উন্নয়নশীল বিশ্বের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এডিবি। টেকসই, স্থিতিস্থাপক এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার হলো আমাদের লক্ষ্য। করোনার প্রভাব থেকে অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে গত এপ্রিলে সংস্থাটি ২০ বিলিয়ন ডলার (১ লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকা) ঋণ ও অনুদান প্যাকেজ ঘোষণা করে। এর মধ্যে জরুরিভাবে অনুদান এবং কারিগরি সহায়তা ছাড় করেছে সংস্থাটি। করোনা মোকাবিলায় এরই মধ্যে সদস্য দেশগুলোর জন্য জরুরিভাবে ১ হাজার ১২০ কোটি ডলার (৯৫ হাজার ২০০ কোটি টাকা) দিতে চুক্তিবদ্ধও হয়েছে সংস্থাটি।
এবারের সভায় অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে সদস্য দেশগুলোর জন্য ছয়টি ক্ষেত্রে সহায়তার কথা উল্লেখ করেছেন এডিবি প্রেসিডেন্ট। এগুলোর মধ্যে প্রথমত করোনাপরবর্তী সময়ে আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং বিশ্বায়ন প্রক্রিয়া জোরদার করা হবে। এজন্য সদস্য দেশগুলোর ভ্যালু চেইন ব্যবস্থার উন্নয়নে সহায়তা করবে এডিবি।
দ্বিতীয়ত কোভিড-১৯-এর প্রভাবে আয় বৈষম্য বেড়েছে। সেসঙ্গে বেড়েছে দারিদ্র্য। এডিবি সদস্য দেশগুলোর স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি খাতে বিনিয়োগ করবে যাতে করে মানবসম্পদ খাতের উন্নতি হয়। তৃতীয়ত জলবায়ু পরিবর্তনজনিত বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নে জোর দেওয়া হবে। সংস্থাটির দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় ২০৩০ সাল পর্যন্ত সব মিলিয়ে ৮০ বিলিয়ন ডলার (৬ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকা) অর্থায়ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
চতুর্থত স্বাস্থ্যসেবায় তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো হবে। বিশেষ করে সাইবার সিকিউরিটি এবং ডিজিটাল ডিভিডেন্ট সুবিধা বাড়ানোর উদ্যোগ থাকবে। পঞ্চমত এডিবি তার সদস্য দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ সম্পদ ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করতে সহায়তা করবে। অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আহরণে দক্ষতা বৃদ্ধি এবং ঋণ ব্যবস্থাপনায় এই সহায়তা করা হবে। ষষ্ঠত এডিবি তার সদস্য দেশগুলোতে নিরাপদ ও কার্যকর ভ্যাকসিন পেতে সহায়তা করবে। সেসঙ্গে এ ভ্যাকসিনগুলো ন্যায়সঙ্গতভাবে বিতরণ ব্যবস্থাপনায় সহায়তা করবে। এজন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, বিশ্বব্যাংক, ভ্যাকসিন এলায়েন্স, ভ্যাকসিন বিশেষজ্ঞ এবং ওষুধ প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার অব্যাহত থাকবে।
