মাধব রায়,সহকারী অধ্যাপক
ব্লু বার্ড স্কুল অ্যান্ড কলেজ,সিলেট
তানভীর সাহেব,আফরা আনজুম,বিন্দু,রেখা,চন্দ্রা, কণিকা,সীমা,কমলা,সবাই বসে আছেন কণিকাদের ছাদে। একটু আগেই নীলকান্তবাবু দাড়িয়া পাড়ার গোপালবাবুর রসগোল্লা আর নিমকি নিয়ে এসেছিলেন বাসায়,অফিস থেকে ফেরার পথে। মিষ্টি খেয়ে সবাই খুশি। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক ড. তানভীর মাহতাব, আর উনার স্ত্রী আফরা আনজুম এসেছেন বেড়াতে। আনজুম একটা স্কুলের টিচার। এসএসসি লেভেলে বিজ্ঞান পড়ান। তিনিও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থবিজ্ঞানে মাস্টার্স ডিগ্রি নিয়েছেন। তানভীর সাহেব এসেছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে সিলেবাস প্রণয়ন কমিটির সাথে এবং প্রশ্ন মডারেশন কমিটির সাথে মিটিংএ। স্ত্রীকেও সাথে নিয়ে এসেছেন সিলেট দেখার উদ্দেশে। ক্লাসমেট নীলকান্তবাবুর বাসায় উঠেছেন,সকলে মিলে চমত্কার কাটছে গত দুই দিন ধরে। নীলকান্তবাবু অণু আর আকাশকে নিয়ে বের হয়েছেন কিছু বাজার সদাই করবেন বলে।
রেখার রবীন্দ্রসঙ্গীতের গলা খুব চমত্কার। ইতোমধ্যে গল্পের ফাঁকে ফাঁকে সে বেশ কয়েকবার গান শুনিয়েছে। আকাশ ভরা সূর্যতারা, বিশ্বভরা প্রাণ। আর বিনিময়ে তানভীর সাহেব আর আফরা আনজুম শুনিয়েছেন পদার্থবিজ্ঞানের গল্প। গল্প-কথায় পদার্থবিজ্ঞান। চমত্কার বদলাবদলি,গান এবং জ্ঞান। বিন্দু অনেকটা সময় ধরে দাঁড়িয়ে আছে। সে বেশিক্ষণ বসতে পারে না। সবাই যখন বসে গল্প করছে, তখন সে উঠে দাঁড়িয়ে একটু হাঁটাহাঁটি করবেই। এখন সে দাঁড়িয়ে আছে।
সীমা বলল— বিন্দু দাঁড়িয়ে আছিস কেন লম্ব হয়ে ?
আফরা আনজুম বললেন— বলো তো লম্ব কী ?
বিন্দু লম্ব শব্দটার সাথে পরিচিত,জ্যামিতিতে পড়েছে। একটা সরল রেখার ওপর আরেকটা সোজা হয়ে দাঁড়ালে লম্ব হয়।
আফরা আনজুম বললেন, এর বাইরে কী জানো, আমি সেটা জানতে চাইছি। বিন্দু চুপ করে থাকল।
লম্বটা পরস্পর হয়, বলল সীমা।
মানে ? বলল রেখা।
মানে হলো একটা রেখা আরেকটার ওপর দাঁড়ালে প্রথমটি দ্বিতীয়টির ওপর লম্ব,আবার দ্বিতীয়টি প্রথমটির ওপর লম্ব।
আনজুম বললেন— ঠিকই বলেছ। লম্বটা দুই বন্ধুর মতো। বন্ধু যেমন একে ওপরের বন্ধু, লম্বও ঠিক তেমনি।
বুঝলাম না —বললো চন্দ্রা।
ধরো রীতা-মিতা দুই বন্ধু। তাহলে রীতা মিতার বন্ধু,আবার মিতাও রীতার বন্ধু। লম্বটাও ঠিক এরকম,পারস্পরিক লম্ব।
বিন্দু বলল— তাহলে তো দুই ভাই এর মতো হতে পারে।
হ্যাঁ,বললেন আনজুম, দুই ভাই বা দুই বোন। ভাই বোনের মতো হবে না বা মা ছেলের মতো হবে না।
মানে ?
মানে হলো রেখা অণুর বোন, কিন্তু অণু রেখার বোন নয়, ভাই। বুঝেছ ?
বিন্দু মাথা নাড়লো, বুঝেছে।
সীমা বলল,সাইনথিটা-কসথিটার মানে কী আন্টি ?
আনজুম বললেন— এগুলো বোঝনি ?
বুঝেছি,কিন্তু কেমন যেন একটা আরেকটার সাথে খটকা লেগে যায়।
আনজুম বললেন— এগুলো হলো একটা ত্রিভূজের দুটো বাহুর অনুপাত।
আকাশ বলল- হ্যাঁ, সাইনথিটা হলো ত্রিভূজের লম্ব ও অতিভূজের অনুপাত।
বিন্দু বলল— লম্ব তো বুঝলাম, অতিভূজটা আবার কী?
রেখা বলল— সমকোণি ত্রিভূজের নব্বই ডিগ্রি কোণের বিপরীত বাহুটা হলো অতিভূজ।
তাহলে কসথিটা কোনটি? সীমার প্রশ্ন।
কসথিটা হলো ভূমি আর অতিভূজের অনুপাত, বললেন আনজুম। আর ট্যানথিটা হলো লম্ব আর ভূমির অনুপাত।
পরের অংশ আগামীকাল
