সফল হয়নি বোরো সংগ্রহ অভিযান

আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২২:১৩

স্টাফ রিপোর্টার, দিনাজপুর

দিনাজপুরে সফল হয়নি বোরো সংগ্রহ অভিযান। নির্ধারিত সময়ের ১৫ দিন বাড়িয়েও ধান ও চালের সংগ্রহ অভিযানের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারেনি দিনাজপুর জেলা খাদ্য বিভাগ। গত ২৬ এপ্রিল বোরো সংগ্রহ অভিযান শুরুর পর ৩১ আগস্ট পর্যন্ত চলার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হওয়ায় আরো ১৫ দিন বাড়িয়ে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সংগ্রহ অভিযানের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়। দিনাজপুর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. আশ্রাফুজ্জামান জানান, দিনাজপুর জেলায় চলতি বোরো সংগ্রহ অভিযানে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ২৬ টাকা কেজি দরে ৩২ হাজার ৭২ মেট্রিক টন ধান, মিলমালিকদের কাছ থেকে ৩৬ টাকা কেজি দরে ৯১ হাজার ৭২৩ মেট্রিক টন সিদ্ধ চাল এবং ৩৫ টাকা কেজি দরে ১৩ হাজার ৯২ মেট্রিক টন আতপ চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু সময়সীমা শেষ হলেও মাত্র ৯ হাজার ১৫৩ মেট্রিক টন ধান, ৯ হাজার ১২২ মেট্রিক টন আতপ চাল এবং ৬৬ হাজার ৬৮৩ মেট্রিক টন সিদ্ধ চাল সংগ্রহ করা হয়। দিনাজপুর জেলা চালকল মালিক সমিতির সভাপতি মোসাদ্দেক হুসেন জানান, বাজারে ধানের মূল্য অনুযায়ী ধান কিনে চাল তৈরি করতে প্রতি কেজি চালের দাম পড়ছে ৩৮ থেকে ৪০ টাকা। কিন্তু সরকারি সংগ্রহমূল্য ৩৬ টাকা। সরকারি সংগ্রহ অভিযানে ধানের সঙ্গে তুলনা করা হলে চালের দাম নির্ধারণ করা উচিত ছিল ৪০ থেকে ৪২ টাকা। বাজারে ধানের দাম বেশি থাকায় ৩৬ টাকা কেজি দরে চাল সরবরাহ করতে ব্যাপকভাবে লোকসান গুনতে হয় মিলমালিকদের। এজন্যই এবার মিলমালিকরা চুক্তি অনুযায়ী চাল সরবরাহ করতে পারেনি।

কামারখন্দ (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, কামারখন্দে নির্দিষ্ট সময় অতিক্রম হওয়ার পর সময় বাড়ানো হলেও প্রচারণার অভাবে পূরণ হয়নি সরকারিভাবে বোরো ধান সংগ্রহ অভিযানের লক্ষ্যমাত্রা। উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক জালিম কাজী জানান, অনেক বার উপজেলা জুড়ে মাইকিং করেছি। তাতেও যদি কৃষক না এসে ধান ঘরে রেখে দেয় তাহলে তো কিছু করার নেই।

কালাই (জয়পুরহাট) সংবাদদাতা জানান, কালাই উপজেলায় করোনা ও দামের তফাতের অজুহাতে মুখ থুবড়ে পড়েছে চলতি বছরের বোরো ধান-চাল সংগ্রহ অভিযান। গত ৩১ আগস্ট নির্ধারিত সময় পার হলেও লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারেনি উপজেলার খাদ্য বিভাগ। কালাই উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) রেবেকা সিদ্দিকা বলেন, সরকার ধান-চাল কেনার যে দাম নির্ধারণ করেছিল বর্তমান বাজারে তার থেকে বেশি দাম ছিল। এ কারণে অনেক মিল-চাতালমালিক এবং কৃষক চাল ও ধান সরকারি গুদামে দেয়নি।