করোনার প্রভাব
জি এম মনিরুল ইসলাম, সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
করোনার কারণে সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দরের রাজস্ব ঘাটতি বেড়েই চলেছে। ব্যবসা-বাণিজ্যেও চলছে মন্দা। চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে ভোমরা স্থলবন্দরে রাজস্ব আদায় হয়েছে ১০১ কোটি ১৭ লাখ টাকা। যা লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় ৫০ কোটি টাকা কম।
ভোমরা শুল্ক স্টেশনের রাজস্ব বিভাগ থেকে জানা গেছে, ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রথম দুই মাস জুলাই-আগস্ট ভোমরা বন্দরে রাজস্ব আদায় লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ১৫১ কোটি ১১ লাখ টাকা। এর মধ্যে জুলাইতে ৭৩ কোটি ৫২ লাখ এবং আগস্টে ৭৭ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। এ লক্ষ্যমাত্রা সামনে রেখে গেল দুই মাসে রাজস্ব আদায় হয়েছে ১০১ কোটি ১৭ লাখ টাকা। সূত্র আরো জানায়, গেল অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে ভোমরা বন্দরে রাজস্ব অর্জিত হয়েছিল ১০২ কোটি ৪৮ লাখ ৪৭ টাকা। বন্দর সংশ্লিষ্টরা বলছেন, করোনা সংকটের পাশাপাশি ভারতের কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে সম্প্রতি বন্যা দেখা দেওয়ার কারণে বন্দরে ব্যবসা বাণিজ্য মন্দা যাচ্ছে। ফলে কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব অর্জিত হয়নি।
ভোমরা স্থলবন্দর সি এন্ড এফ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান নাসিম জানান, দেশের অধিকাংশ বন্দরে ব্যবসা-বাণিজ্য ভালো যাচ্ছে না। যে কারণে রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ কমে গেছে। করোনার কারণে গেল অর্থবছরের ২৪ মার্চ থেকে ভোমরা বন্দর প্রায় সাড়ে তিন মাস বন্ধ থাকে। তবে আগামীতে বন্দরের পণ্য আমদানি-রপ্তানি ভালো হলে রাজস্বের পরিমাণও বেড়ে যাবে। নাসিম বলেন, করোনার প্রাদুর্ভাবে একটানা ৮০ দিন ভোমরা বন্দরের সব কার্যক্রম বন্ধ থাকায় বন্দরসংশ্লিষ্ট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জড়িতরাও ক্ষতির শিকার হয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, এই বন্দরে প্রতিদিন ৩৫/৪০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হয়ে থাকে। ভোমরা স্থলবন্দরের আমদানিকারক মো. আবু হাসান জানান, করোনার প্রভাবে ব্যবসা বাণিজ্যে যে ক্ষতি হয়েছে তা আস্তে আস্তে ঠিক হয়ে যাবে। ভোমরা শুল্ক স্টেশনের দায়িত্বরত কাস্টমসের বিভাগীয় সহকারী কমিশনার মালেকিন নাসির আকন্দ জানান, চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য অনুযায়ী প্রায় ৫০ কোটি টাকার ঘাটতি হয়েছে। করোনা পরিস্থিতির কারণে বন্দরের পণ্য আমদানি-রপ্তানি হ্রাস পাওয়াতেই এ ঘাটতি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে রাজস্ব আয় বাড়বে বলে আশা করছেন তিনি।
