আস্থা ফিরছে শেয়ারবাজারে

আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২২:২৮

দেড় মাসে নতুন বিনিয়োগকারী বেড়েছে ৪২ হাজার

রেজাউল হক কৌশিক

ধারাবাহিক উত্থান বজায় রেখে চলছে শেয়ারবাজার। করোনা ভাইরাস শুরু হওয়ার পর এমন ধারাবাহিক ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা আর দেখা যায়নি। টানা উত্থান ও লেনদেনের পরিমাণ বাড়ার কারণে বিনিয়োগকারীরা আশাবাদী হচ্ছেন। আর আস্থার সংকট তা দূর হতে শুরু করেছে। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আশার আলো দেখা যাচ্ছে। আর নতুন করে বিনিয়োগকারী বাজারে ঢুকছে।

শেয়ারবাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়ছে কি না তার একটি অন্যতম নির্দেশক হলো নতুন বিনিয়োগকারী বাজারে ঢুকছে কি না সেটা দেখা। গত দেড় মাসে পুঁজিবাজারে নতুন বিনিয়োগকারী এসেছেন প্রায় ৪২ হাজার। সে হিসেবে বলা যায় যে বাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়ছে। এছাড়া সূচক ও লেনদেনও ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। ফলে বর্তমান বিনিয়োগকারীরা বাজারে সক্রিয় হচ্ছে।

সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেডের (সিডিবিএল) তথ্য অনুযায়ী, গত ৩ আগস্ট বিও হিসাব ছিল ২২ লাখ ৯৯ হাজার ১৪০টি। যা বর্তমানে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৩ লাখ ৪১ হাজার ১৫৯টিতে। অর্থাত্ গত দেড় মাসে বিও হিসাব বেড়েছে ৪১ হাজার ৯০৮টি। এর মধ্যে চলতি সেপ্টেম্বর মাসেই নতুন বিও হিসাব বেড়েছে ২৪ হাজার ১৬৩টি। নতুন যে বিও হিসাব বেড়েছে তার মধ্যে ৪১ হাজার ৭৮৯টিই ব্যক্তি বিনিয়োগকারী। বাকিগুলোর মধ্যে ২২৯টি প্রাতিষ্ঠানিক বিও হিসাব। আর একটি অমনিবাস হিসাব। বর্তমানে ব্যক্তি বিও হিসাব আছে ২৩ লাখ ২৭ হাজার ৭৫৭টি। এর মধ্যে একক বিও হিসাব ১৫ লাখ ৫ হাজার ৮৪১টি এবং যৌথ হিসাব ৮ লাখ ২১ হাজার ৯১৬টি। গত ৩ আগস্ট ব্যক্তি বিও হিসাব ছিল ২২ লাখ ৮৫ হাজার ৯৬৮টি। যার মধ্যে একক বিও হিসাব ১৪ লাখ ৮০ হাজার ৩০৯টি এবং যৌথ হিসাব ৮ লাখ ৫ হাজার ৬৫৯টি। সিডিবিএলের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে যে ব্যক্তি বিনিয়োগকারীর বিও হিসাব আছে তার মধ্যে ১৭ লাখ ১৮ হাজার ৭০০টি পুরুষ। বিপরীতে নারীদের বিও হিসাব ৬ লাখ ৯ হাজার ৫৭টি। গত ৩ আগস্ট পুরুষ বিও হিসাব ছিল ১৬ লাখ ৮৪ হাজার ৬৫৬টি এবং নারী বিও হিসাব ছিল ৬ লাখ ১ হাজার ৩১২টি। এ হিসাবে পুরুষ বিনিয়োগকারীর সংখ্যা বেড়েছে ৩৪ হাজার ৪৪ জন এবং নারী বিনিয়োগকারী বেড়েছে ৭ হাজার ৭৪৫ জন।

বিনিয়োগকারীরা বলছেন, একদিকে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নতুন কমিশনের ওপর বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধি, অন্যদিকে করোনার প্রকোপ কিছুটা কমে যাওয়ায় বাজারে টানা ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

শেয়ারবাজারের বর্তমান পরিস্থিতি বিষয়ে অর্থনীতিবিদ ও শেয়ারবাজার বিশ্লেষক অধ্যাপক আবু আহমেদ ইত্তেফাককে বলেন, শেয়ারবাজারে ধারাবাহিকভাবে উত্থান বিনিয়োগকারীদের আশাবাদী করছে। এ ধারাবাহিকতা ঠিক রাখতে হবে। পুরাতন বিনিয়োগকারীদের আশাবাদ ও নতুন বিনিয়োগকারী যুক্ত হলে বাজার শক্তিশালী হবে। তিনি বলেন, শেয়ারবাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের অনাস্থা দূর করতে এবং ভালো শেয়ার বাজারে আনতে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) খুব ভালো ভূমিকা রাখছে। এই ধারাবাহিকতা রাখতে হবে। তবে বাজারে এখনো কিছু খারাপ বিষয় রয়েছে সেগুলোর দিকে কমিশনকে নজর দিতে হবে। নতুন নতুন ভালো কোম্পানি বাজারে নিয়ে আসতে পারলে বাজার আরো ভালো হবে। এতে নতুন বিনিয়োগকারীরা বাজারে যুক্ত হওয়ার পাশাপাশি পুরাতন বিনিয়োগকারীরা তাদের বিনিয়োগের পরিমাণ বাড়াবে।