উদ্ভাবনে দক্ষিণ এশিয়ায় পিছিয়ে বাংলাদেশ

আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২২:৩০

গ্লোবাল ইনোভেশন ইনডেক্সে ১৩১ দেশের মধ্যে ১১৬তম অবস্থানে

ইত্তেফাক রিপোর্ট

বৈশ্বিক উদ্ভাবন সূচকে ১৩১টি দেশের মধ্যে ১১৬তম অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। প্রযুক্তিগত উদ্ধাবন ও সৃজনশীলতার এই তালিকায় দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশ এগিয়ে গেলেও তিন বছর ধরে একই অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভালো অবস্থান ভারতের। দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে দেশটি। ভারত এক বছরের ব্যবধানে ৫২তম থেকে ৪৮তম অবস্থানে উঠে এসেছে। দক্ষিণ এশিয়ায় মধ্যে ভারত, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান এমনকি নেপাল থেকেও পিছিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ। উদ্ভাবনের শীর্ষ স্থান দখল করে রেখেছে সুইজারল্যন্ড, সুইডেন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, নেদারল্যন্ড।

‘গ্লোবাল ইনোভেশন ইনডেক্স-২০২০’ শিরোনামে এই প্রতিবেদন সম্প্রতি প্রকাশ করেছে ওয়ার্ল্ড ইনটেলেকচুয়াল প্রপার্টি অর্গানাইজেশন। দেশগুলোর রাজনৈতিক অবস্থা, ব্যাবসায়িক পরিবেশ, মানবসম্পদ এবং গবেষণা, অবকাঠামো, বাণিজ্যের অবস্থা, ব্যবসায়ে উদ্ভাবনী, তথ্য প্রযুক্তি ও কারিগরি ব্যবহার, সৃজনশীলতা প্রভৃতি বিবেচনায় এই সূচক তৈরি করা হয়েছে। সেই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে শিক্ষার মান, বিজ্ঞানভিত্তিক প্রকাশনা ও আন্তর্জাতিক পেটেন্ট আবেদনের সংখ্যা প্রভৃতি বিবেচনায় নেওয়া হয়। এই প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট দেশের অর্থনীতি কতটা শক্তিশালী সেটা নির্দেশ করে এবং সেই বিবেচনায় দেশটিকে তালিকায় স্থান দেওয়া হয়। এই সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ১৩১টি দেশের মধ্যে ১১৬তম। ভারত ৪৮তম, পাকিস্তান ১০৭তম, নেপাল ৯৫তম, শ্রীলঙ্কা রয়েছে ১০১তম অবস্থানে। প্রতিবেদনে উচ্চ আয়ের দেশগুলোর মধ্যে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে যথাক্রমে সুইজারল্যন্ড, সুইডেন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, নেদারল্যন্ড, ডেনমার্ক, ফিনল্যন্ড, সিঙ্গাপুর, জার্মানি এবং কোরিয়া। শূন্য থেকে ১০০-এর মধ্যে স্কোর তৈরি করা হয়। এতে বাংলাদেশ পেয়েছে ২০ দশমিক ৩৯। শীর্ষ দেশ সুইজারল্যন্ডের ৬৬। আর সর্বনিম্ন ইয়েমেনের মাত্র ১৩ দশমিক ৫৬।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে উদ্ভাবন ও গবেষণা খাতে দেশগুলো বরাদ্দ বাড়িয়েছে। তাছাড়া বিভিন্ন দেশ রাজনৈতিকভাবে প্রতিশ্রুতিও দিচ্ছে গবেষণা ও উদ্ভাবন বাড়াতে। বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে ২০১৮ সালের তুলনায় গবেষণা খাতে ব্যয় বেড়েছে ৫ দশমিক ২ শতাংশ। করোনার পরিস্থিতিতে অনেক দেশ ওষুধ খাতে গবেষণা বাড়িয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতির ফলে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পর্যটনসহ বিভিন্ন খাতে নতুন নতুন উদ্ভাবনী বাড়বে বলে প্রত্যাশা করা হয়েছে। বাংলাদেশ তুলনামূলক অবকাঠামোর উন্নয়নে এগিয়ে রয়েছে। তবে মানবসম্পদ উন্নয়নের সূচকে সবচেয়ে পিছিয়ে ১২৯তম অবস্থানে রয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী উচ্চ মধ্য আয়ের দেশগুলোর মধ্যে শীর্ষে রয়েছে চীন (১৪তম), মালয়েশিয়া (৩৩), বুলগেরিয়া (৩৭), থাইল্যন্ড (৪৪), রুমানিয়া (৪৬), রাশিয়া (৪৭), মন্টিনেগ্রো (৪৯), তুরস্ক (৫১), মৌরিতাস (৫২), সার্বিয়া (৫৩)। নিম্ন মধ্য আয়ের দেশের তালিকার শীর্ষে রয়েছে ভিয়েতনাম (৪২), ইউক্রেন (৪৫), ভারত (৪৮), ফিলিপাইন (৫০), মঙ্গোলিয়া (৫৮), মালদোভা (৫৯), তিউনিশিয়া (৬৫), মরোক্কো (৭৫), ইন্দোনেশিয়া (৮৫), কেনিয়া (৮৬)। নিম্ন আয়ের দেশের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে তানজানিয়া, রুয়ান্ডা, নেপাল, তাজিকিস্তান, মালাউই, উগান্ডা, মাদাগাস্কার, বারকিনা ফাসো, মালি ও মোজাম্বিক।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বর্তমানে করোনা পরিস্থিতিতে জরুরিভাবে বিভিন্ন দেশ উদ্ভাবন কাজে বিনিয়োগ বাড়িয়েছে। কিন্তু জরুরিভাবে নেওয়া উদ্যোগের পাশাপাশি মহামারি প্রতিরোধ হয়ে যাবার পরেও উদ্ভাবনী কাজে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে।