জেলা উপজেলা ও ইউপি নির্বাচন

নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু বিএনপির

আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২২:৪৪

ইউনিয়ন পরিষদ, পৌর এবং উপজেলা নির্বাচন ঘিরে তৃণমূলে বইছে ভোটের হাওয়া। সম্ভাব্য প্রার্থীরা এরই মধ্যে মাঠে নেমে পড়েছেন। করোনা ভাইরাস উপেক্ষা করে দলীয় নেতাকর্মী ও স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় শুরু করেছেন তারা। আগামী মাসে প্রায় ২০০ ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শুরু হচ্ছে স্থানীয় সরকারের একটানা ভোটের কার্যক্রম। ডিসেম্বরে দুই শতাধিক পৌরসভায় নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। এরপর উপজেলা। ফেব্রুয়ারিতে ইউপি নির্বাচনের তপশিল হবে। মার্চ থেকে কয়েকটি ধাপে হবে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার ইউনিয়ন পরিষদে ভোট।

এদিকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণার পর বিএনপির তৃণমূলে চাঙ্গাভাব সৃষ্টি হয়েছে। দলীয় মনোনয়ন পেতে অনেকে জেলা ও কেন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছেন। সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে যারা ত্যাগী, তাদের ব্যাপারে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, স্থানীয় সরকারের অধীনে আসন্ন উপজেলা, পৌর ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে বিএনপি। এই লক্ষ্যে সর্বাত্মক প্রস্তুতি শুরু করেছে দলটি। গতকাল দলটি তৃণমূলের নেতাদের প্রার্থী মনোনয়নের দিক নির্দেশনামূলক চিঠি পাঠিয়েছে। দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবীর রিজভী স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়েছে: জেলা এবং উপজেলা/পৌর/ইউনিয়ন কমিটির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ শীর্ষস্থানীয় নেতারা আলোচনাক্রমে দলীয় প্রার্থী মনোনয়নের জন্য লিখিত সুপারিশ করবেন এবং সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর আবেদন জাতীয় পরিচয়পত্র এবং হালনাগাদ ভোটার তালিকাসহ মনোনয়ন দাখিলের শেষ তারিখের ৫ কার্যদিবস পূর্বে গুলশানে চেয়ারপার্সনের কার্যালয়ে বাহক মারফত প্রেরণ করবেন।বিএনপির নীতিনির্ধারকরা বলছেন, দেশের নির্বাচন ব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের কোনো আস্থা নেই। নির্বাচন প্রক্রিয়াটাকে সরকার ও নির্বাচন কমিশন নষ্ট করে দিয়েছে। তাদের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। আগামী নির্বাচনেও অতীতের মতো কারচুপি হওয়ার জোর আশঙ্কা রয়েছে। এমন আশঙ্কার পরও নির্বাচনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কারণ তারা মনে করেন এই নির্বাচন আন্দোলনের একটি অংশ।

এ প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমরা বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি যে এখন আমরা সব নির্বাচনেই অংশ নিব। এটা আমাদের রাজনৈতিক কৌশল। ভোটের মাধ্যমে নির্বাচনি ব্যবস্থাকে ধ্বংস এবং গণতন্ত্রকে নির্বাসনে পাঠিয়ে দেওয়ার একদলীয় ব্যবস্থা সম্পর্কে জনগণ আরো কিছু স্বচক্ষে দেখার সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি দলীয় নেতাকর্মীরা সংগঠিত হওয়ার সুযোগ পাবেন এবং দল চাঙ্গা হবে বলে তিনি মনে করেন।