সীমান্তে হত্যা বন্ধে আবারও প্রতিশ্রুতি

আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২২:৪৭

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে হত্যার হার শূন্যে নামিয়ে আনার ব্যাপারে বাংলাদেশকে আবারও আশ্বস্ত করেছে ভারত। এখন থেকে গুলি যদি চালাতে হয়, সেক্ষেত্রে শরীরের নিচের অংশে গুলিবিদ্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে বিএসএফ। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের (বিএসএফ) মহাপরিচালক পর্যায়ের চার দিনব্যাপী সম্মেলন শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে গতকাল শনিবার বিএসএফের নতুন মহাপরিচালক রাকেশ আস্থানা বলেন, শেষ উপায় হিসেবে গুলি চালানোর বিষয়ে বিএসএফ সদস্যরা সবসময় নির্দেশনা পেয়ে থাকে। একই সঙ্গে নন-লেথাল (প্রাণঘাতী নয়) অস্ত্র ব্যবহার করার নির্দেশনাও রয়েছে। হত্যাকাণ্ডের ৭০ ভাগ ঘটনা ঘটছে রাত সাড়ে ১০টা থেকে ভোর সাড়ে ৫টার মধ্যে। অপরাধীরা এই সময়ে তাদের কাজ চালায়। এসব অপরাধ দমন করতে গিয়ে এ বছর ৫২ জন বিএসএফ সদস্য আহত হয়েছেন। হত্যাকাণ্ডের সংখ্যা শূন্যে নামিয়ে আনা হবে। এজন্য বিজিবি-বিএসএফ সীমান্তে যৌথ টহল এবং এলাকার লোকজনের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির চেষ্টা করবে।

গত বুধবার থেকে শুরু হওয়া ৫০তম সীমান্ত সম্মেলনের আলোচ্যসূচির এক নম্বরে ছিল ‘সীমান্তে নিরস্ত্র বাংলাদেশি নাগরিকদের গুলি/হত্যা/আহত করা’। শনিবার সম্মেলন শেষে বিজিবি এবং বিএসএফের মধ্যে মহাপরিচালকদের যৌথ দলিল স্বাক্ষর হয়। বিজিবির ১৩ সদস্যের প্রতিনিধি দলের বিপরীতে বিএসএফের ছয় সদস্যের প্রতিনিধি দল বৈঠকে অংশ নেয়।

যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বিএসএফ প্রধান বলেন, অপরাধীরা সংঘবদ্ধ হয়ে টহল দলের ওপর হামলা করলে মারণাস্ত্র প্রয়োগ করা হয়। আমি কোনো হত্যার বৈধতা দিচ্ছি না। তার পরেও আমাদের সদস্যদের নির্দেশ দেওয়া আছে, যদি গুলি চালাতেই হয় তবে যেন শরীরের নিচের অংশে চালানো হয়। তবুও রাতে ভিজিবিলিটি কম থাকায় অনেক সময় দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা ঘটে। তার পরেও ভবিষ্যতে আপনারা দেখতে পারবেন আমরা এ বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেব। পাশাপাশি মাদক চোরাচালান অর্থাত্ ফেনসিডিল বা ইয়াবা পাচার রুখতে দুই বাহিনী এক সঙ্গে টহল দেবে।

গত ১০ সেপ্টেম্বর ঠাকুরগাঁওয়ের বালিডাঙ্গি উপজেলার বেওড়ঝাড়ি সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি জেলে নিহত হওয়ার ঘটনার ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে বিএসএফ প্রধান বলেন, ‘ঘটনাটি আমরা তদন্ত করব।’

যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. সাফিনুল ইসলাম বলেন, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের ওপর সীমান্ত হত্যা কমে-বাড়ে। আমাদের দেশের কিছু লোকও ভারতের ভেতরে ঢুকে পড়ে। সে কারণে হত্যার ঘটনা ঘটছে। এই ব্যর্থতা বিজিবির কি না? এমন প্রশ্নে সাফিনুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সীমান্ত ৪ হাজার কিলোমিটারের বেশি। নদীনালা, ফসলি জমি ও পাহাড়ি এলাকা আছে। তার পরও এখন পাঁচ কিলোমিটার পরপর সীমান্ত চৌকি আছে। তাই এটা একটু কষ্টকরই। পুরো সীমান্ত এলাকায় হাতে হাত রেখে দাঁড়ালে কি পরিমাণ সৈন্য লাগবে ? এতসংখ্যক সৈন্য তো আমাদের নেই।

বিজিবি প্রধান আরো বলেন, মানব পাচার ও অবৈধভাবে আন্তর্জাতিক সীমানা অতিক্রম করা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়ে উভয় পক্ষ সম্মত হয়েছে। দুই দেশই পূর্ব অনুমোদন ছাড়া ১৫০ গজের মধ্যে কোনো ধরনের উন্নয়নমূলক কাজ না করার বিষয়ে সম্মত হয়েছে। যৌথ নদী কমিশনের অনুমোদন অনুযায়ী সীমান্ত নদীর তীর সংরক্ষণে সহায়তা প্রদান এবং অননুমোদিত অভিন্ন নদীর তীর সংরক্ষণে কাজ না করতে সম্মত হয়েছে।

আগামী নভেম্বর মাসে ৫১তম সীমান্ত সম্মেলন ভারতের আসামের গুয়াহাটিতে অনুষ্ঠিত হবে বলে বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে জানানো হয়।