সখীপুরে মেয়ে চায়না আক্তারকে ধরিয়ে দিতে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে পুরস্কার ঘোষণা করেছেন বাবা আব্দুল মান্নান। শুক্রবার একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় মেয়ের ছবিসহ বিজ্ঞাপন দিয়েছেন তিনি। এর আগে গত বুধবার মেয়েকে আসামি করে সখীপুর থানায় একটি প্রতারণার অভিযোগও করেন। বাবার অভিযোগ, তার চিকিত্সার জন্য জমি বিক্রির ৫ লাখ টাকা নিয়ে উধাও হয়েছেন মেয়ে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আবদুল মান্নান পেশায় এক জন ঘোড়ার গাড়িচালক। এক বছর ধরে নানা জটিল রোগে ভোগায় গাড়িও চালাতে পারছেন না তিনি। সম্প্রতি তার চিকিত্সার জন্য ৫ লাখ টাকায় বসতবাড়ি বিক্রি করেছেন। একমাত্র ছেলেটি বিয়ে করে আলাদা সংসার পেতেছেন। চার মেয়েকে বিয়েও দিয়েছেন তিনি। গত ৯ সেপ্টেম্বর তার ছোট মেয়ে চায়নাকে সঙ্গে নিয়ে চিকিত্সার ঐ ৫ লাখ টাকা ব্যাংকে জমা রাখার জন্য উপজেলার নলুয়া বাজারে আসেন। ব্যাংকে বাবাকে বসিয়ে রেখে চায়না টাকাসহ তার স্বামীকে নিয়ে সটকে পড়েন। তিনি মেয়ের স্বামীর বাড়িতে গেলে তাদের খোঁজ পাননি। অবশেষে সাত দিন পর গত বুধবার সখীপুর থানায় মেয়ের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ করেন। শুক্রবার একটি জাতীয় দৈনিকে মেয়ের ছবিসহ ‘ধরিয়ে দিন, পুরস্কার দেওয়া হবে’ শিরোনামে একটি বিজ্ঞাপন ছাপা হয়।
আবদুল মান্নান জানান, মেয়ে আমার সঙ্গে প্রতারণা করেছে। চিকিত্সার জন্য বাড়ি বিক্রির টাকা নিয়ে উধাও হয়ে গেছে। ঐ টাকা না হলে আমাকে চিকিত্সার অভাবে ধুঁকে ধুঁকে মরতে হবে। আমি আমার মেয়েকে বিশ্বাস করে ভুল করেছিলাম। আমার মেয়েকে পুলিশ অথবা যে কেউ ধরিয়ে দিতে পারলে তাকে উপযুক্ত পুরস্কার দেওয়া হবে।
সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আমির হোসেন বলেন, মেয়ে চায়নাকে আসামি করে আবদুল মান্নান একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত চলছে।
