থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী প্রায়ুত চ্যান ওচার সরকারের বিরুদ্ধে গতকাল শনিবার ব্যাংককের রাজপথে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে। বিক্ষোভকারীরা দেশের রাজতন্ত্রের সংস্কারও দাবি জানিয়ে গণতন্ত্রের পক্ষে শ্লোগান দিয়েছে। বিক্ষোভকারীরা ‘সামন্ততন্ত্র নিপাত যাক, জনগণ দীর্ঘজীবী হোক’ প্ল্যাকার্ড নিয়ে রাজপথে অবস্থান নেয়।
গত মধ্য জুলাই থেকে চ্যান ওচার পদত্যাগ, নতুন সংবিধান এবং নির্বাচনের দাবিতে থাইল্যান্ডে বিক্ষোভ শুরু হয়। মাঝে মাঝে রাজপথ উত্তাল হয় আবার কখনো কখনো কিছুটা ছেদ পড়ে আন্দোলনে। দেশটিতে দীর্ঘদিন ধরে রাজা মহাভাজিরালংকর্নের সমালোচনা নিষিদ্ধের যে ট্যাবু চলে আসছে বিক্ষোভকারীরা তাও ভঙ্গ করেছে।
১৯৭৬ সালের পর থাই সরকারের বিরুদ্ধে এত বড় বিক্ষোভ আর দেখা যায়নি। হালকা বৃষ্টির মধ্যেই বিক্ষোভকারীরা রেইনকোট পরে কিংবা ছাতা হাতে জড়ো হয়েছিল। বিক্ষোভ আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী মানবাধিকার আইনজীবী আরনন নামপা এক টুইটে লিখেছেন, ‘আজ জনগণ তাদের ক্ষমতা ফেরত চাইবে।’
দেশটিতে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছিলেন প্রায়ুথ চান ওচা। কিন্তু ধীরে ধীরে তার জনপ্রিয়তা কমে যাচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে, থামাসাত বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে হাজার হাজার বিক্ষোভকারী জড়ো হয়েছে। গ্র্যান্ড প্যালেসের বিপরীত পাশে অবস্থিত সানাম লঞ্জে জড়ো হয় তারা। ঐ এলাকা জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত এবং সেখানে রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
বিক্ষোভে অংশ নেয়া ৬৮ বছর বয়সি তাসাওয়ান সুয়েবথাই বলেন, ‘আমি আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যতের জন্য লড়াই করতে এখানে এসেছি। আমি আশা করছি যে, আমি যখন থাকব না তখন তারা স্বাধীন হয়ে যাবে।’ তবে সরকারের পতন চেয়ে বিক্ষোভ হলেও তা ছিল বেশ শান্তিপূর্ণ। গত মাসের একটি বিক্ষোভে ১০ হাজারের বেশি মানুষ জড়ো হয়েছিল। এবার তার চেয়েও আরো বেশি মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেবে বলে আশা প্রকাশ করে বিক্ষোভের আয়োজন করেছে সরকারবিরোধীরা। -বিবিসি
