ডিএনএ ম্যাচিংয়েই থমকে আছে তদন্ত

আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২২:৫৪

দেশব্যাপী বহুল আলোচিত কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের ছাত্রী সোহাগী জাহান তনু হত্যার সাড়ে চার বছর পূর্ণ হচ্ছে আজ। দীর্ঘ এ সময় ধরে তদন্তে তনুর হত্যাকারী কে বা কারা তা শনাক্ত হয়নি। মামলার তদন্তেও উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি নেই। তদন্তে আর কত সময় লাগবে, তা তদন্তসংশ্লিষ্টরাও নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না। তাদের দাবি, ডিএনএ মেলানো (ম্যাচিং) চলছে। মিলে গেলেই তদন্তে একটা ফল আসবে। এদিকে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার আকুতি জানিয়েছেন তনুর বাবা-মা। তাদের বিশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করলে তারা মেয়ে হত্যার                  বিচার পাবেন। ২০১৬ সালের ২০ মার্চ রাতে কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতর থেকে তনুর লাশ উদ্ধার করা হয়। সেখানে প্রাইভেট পড়াতে গিয়েছিল সে। পরদিন তার বাবা সেনানিবাস বোর্ডের অফিস সহায়ক ইয়ার হোসেন কোতোয়ালি মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।

জানা গেছে, তনু হত্যা মামলাটি থানা পুলিশ ও ডিবির পর ২০১৬ সালের ১ এপ্রিল থেকে তদন্তের দায়িত্ব পায় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডি কুমিল্লা। তনুর দুই দফা ময়নাতদন্তে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগ মৃত্যুর সুস্পষ্ট কারণ উল্লেখ করেনি। শেষ ভরসা ছিল ডিএনএ রিপোর্ট। ২০১৭ সালের মে মাসে সিআইডি তনুর জামাকাপড় থেকে নেওয়া নমুনার ডিএনএ পরীক্ষা করে তিন জন পুরুষের শুক্রাণু পাওয়ার কথা গণমাধ্যমকে জানিয়েছিল। সর্বশেষ তিন জনকে ২০১৭ সালের ২৫ অক্টোবর থেকে ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত সিআইডির একটি দল ঢাকা সেনানিবাসে জিজ্ঞাসাবাদ করে। কিন্তু এখন পর্যন্ত আসামি শনাক্ত হয়নি। তবে তদন্তকারী সংস্থার একটি সূত্র জানায়, ‘যাদের ডিএনএ নেওয়া হয়েছে, সেগুলোর প্রোফাইল তৈরি করে ম্যাচিং করা হবে। ফল পেতে সময় লাগে। তারপর আলামতের সঙ্গে মেলানো হবে। এখন পর্যন্ত ঐ প্রতিবেদন আসেনি।’

এদিকে এখনো তনুর খুনি চিহ্নিত না হওয়ায় ক্ষুব্ধ ও হতাশ তার পরিবার এবং কুমিল্লার সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ বিশিষ্টজনেরা। গণজাগরণ মঞ্চ কুমিল্লার মুখপাত্র খায়রুল আনাম রায়হান বলেন, ‘তনু হত্যা মামলাটির তদন্তে সিআইডি ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। যা খুবই দুঃখজনক। আমরা হতাশ।’ মামলার বাদী তনুর বাবা ইয়ার হোসেন বলেন, ‘এখন মামলার তদন্ত হচ্ছে না, থমকে আছে। মামলার ভবিষ্যত্ নিয়ে আমরা হতাশ। ভরসা এখন আল্লাহ যদি বিচার করেন।’  

তনুর মা আনোয়ারা বেগম বলেন, ‘মৃত্যুর আগে মেয়ের হত্যাকাণ্ডের বিচার দেখে যেতে চাই। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাত্ করে মেয়ে হত্যার বিচার চাওয়ার সুযোগ পেলে অন্তরে শান্তি পেতাম। এখন সিআইডির সঙ্গে আমাদের কোনো যোগাযোগ নেই, তারাও যোগাযোগ করছে না।’

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সিআইডি কুমিল্লার বিশেষ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জালাল উদ্দিন আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘ডিএনএ পরীক্ষা এবং ম্যাচিং করার বিষয়টি সময়সাপেক্ষ। ডিএনএ ম্যাচিংয়ের কাজ চলছে। সিআইডি ঢাকার ল্যাবে তা করা হচ্ছে। মামলার তদন্ত কাজে অগ্রগতি নেই তা বলা যাবে না। কাজ করে যাচ্ছি। এজন্য সবসময় বাদীর সঙ্গে দেখা ও কথা বলতে হয় না। বাদী ও তার পরিবারের অভিযোগ ঠিক নয়।’