পেঁয়াজ আসার খবরে দাম কমল কেজিতে ২০ টাকা

আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২২:৫৬

অবশেষে রপ্তানি বন্ধের পাঁচ দিন পর গতকাল শনিবার দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর, সাতক্ষীরার ভোমরা বন্দর, চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে ভারতীয় পেঁয়াজ আসতে শুরু করেছে। তবে সেসব পেঁয়াজের একটি অংশ পচে নষ্ট হয়ে গেছে বলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন। এদিকে ভারত থেকে পেঁয়াজ আসার খবরেই দেশের বাজারে প্রতি কেজিতে দাম কমে গেছে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত।

গত ১৪ সেপ্টেম্বর কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই ভারত হঠাত্ করে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দেয়। এতে দেশের পেঁয়াজের বাজারে অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়ে। বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা রপ্তানি বন্ধের আগে এলসি করা পেঁয়াজ ছেড়ে দেওয়ার দাবি জানান। দেশের পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ও এ ব্যাপারে ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ করে। বিষয়টি নিয়ে শুক্রবার ভারত সরকারের পররাষ্ট্র, অর্থ ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা নয়াদিল্লিতে আলোচনায় বসেন। শুক্রবার রাতেই ভারত সিদ্ধান্ত দেয় যে আগের এলসি খোলা ও বাংলাদেশের সীমান্ত পয়েন্টে অপেক্ষমাণ পেঁয়াজের ট্রাকগুলো বাংলাদেশে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে। প্রায় ২৬ হাজার টন পেঁয়াজ সীমান্ত দিয়ে প্রবেশের অপেক্ষায় ছিল। সেসব পেঁয়াজ গতকাল থেকে               বাংলাদেশে ঢুকতে শুরু করেছে।

ইত্তেফাকের হাকিমপুর (দিনাজপুর) সংবাদদাতা জাহিদুল ইসলাম জানান, গতকাল বেলা ৩টা ২০ মিনিটে দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে পেঁয়াজ ঢুকতে শুরু করে। ১১টি ট্রাকে প্রায় ৩০০ টন পেঁয়াজ ঢুকেছে এ স্থলবন্দর দিয়ে। এরআগে বেলা ১টা পর্যন্ত ভারতের ঘোঝাডাঙ্গা স্থলবন্দর দিয়ে দেশের সাতক্ষীরার ভোমরা বন্দরে পেঁয়াজভর্তি ১৪টি ট্রাক ঢোকে। প্রতিটি ট্রাকে প্রায় ২৫ টন করে পেঁয়াজ রয়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়েও বেলা ১টা পর্যন্ত পেঁয়াজভর্তি আটটি ট্রাক ঢুকেছে।

এ প্রসঙ্গে হিলি স্থলবন্দর আমদানি-রপ্তানিকারক গ্রুপের সভাপতি হারুন-উর-রশিদ গতকাল ইত্তেফাককে বলেন, যেসব পেঁয়াজ ঢুকছে তা সবই ১৪ সেপ্টেম্বরের আগে এলসি করা। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, হিলি বন্দর দিয়ে আমদানির জন্য প্রায় ১০ হাজার টন পেঁয়াজের এলসি করা হয়েছে। এরমধ্যে মাত্র ৩০০ টন পেঁয়াজ এসেছে। বাকি পেঁয়াজ কবে আসবে এ ব্যাপারে এখনো আমাদের কিছু জানানো হয়নি। কয়েকদিন ট্রাকে আটকা থাকায় অনেক পেঁয়াজ পচে নষ্ট হয়ে গেছে বলে তিনি জানান।

দাম কমেছে পেঁয়াজের

এদিকে ভারত থেকে পেঁয়াজ আসার খবরেই রাজধানীসহ সারাদেশে পেঁয়াজের দাম এক লাফে কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত কমে গেছে। কমে গেছে ক্রেতার সংখ্যাও। গতকাল রাজধানীর বাজারগুলোতে খুচরা পর্যায়ে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ ৮০ থেকে ৯০ টাকা ও আমদানিকৃত ভারতের পেঁয়াজ ৬০ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হয়। যা একদিন আগেও যথাক্রমে ৯০ থেকে ১১০ টাকা ও ৭০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

দাম কমেছে পাইকারি বাজারেও। যদিও গত দুই দিন ধরেই পাইকারি বাজারে পেঁয়াজের দর নিম্নমুখী ছিল। গতকাল রাজধানীর সবচেয়ে বড় পাইকারিবাজার শ্যামবাজারে মানভেদে দেশি পেঁয়াজ ৭০ থেকে ৭২ টাকা ও ভারতের পেঁয়াজ ৫০ থেকে ৫৫ টাকায় বিক্রি হয়। যা একদিন আগে যথাক্রমে ৭৫ থেকে ৭৭ টাকা ও ৬০ থেকে ৬৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

পেঁয়াজের দাম কমা প্রসঙ্গে আমদানিকারক মোরশেদুর রহমান ইত্তেফাককে বলেন, দেশের পেঁয়াজের বাজার আমদানি নির্ভর। আর আমদানির প্রায় ৯০ শতাংশ ভারত থেকে আসে। ফলে ভারত রপ্তানি বন্ধ করলে যেমন পেঁয়াজের দাম লাগামহীনভাবে বাড়তে থাকে তেমনি পেঁয়াজ আসার খবরে দাম কমে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রপ্তানি বন্ধের আগে দেশের ব্যবসায়ীদের ২৫ থেকে ২৬ হাজার টন পেঁয়াজের জন্য এলসি করা আছে। এই পেঁয়াজ পুরোপুরি দেশে আসলেও বাজার কিছুদিন স্থিতিশীল থাকবে।

তুরস্ক থেকে ১ লাখ টন

পেঁয়াজ আনছে টিসিবি

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করায় দেশে ব্যবসায়ীরা চীন, মিয়ানমার, মিসর ও তুরস্ক থেকে পেঁয়াজ আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে। প্রথম পর্যায়ে এই দেশগুলো থেকে খুব শিগগির ৫০ হাজার টন পেঁয়াজ আসছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বাংলাদেশ ব্যাংক পেঁয়াজ আমদানির এলসির সুদ হার সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ নির্ধারণ করায় পেঁয়াজ আমদানি বাড়বে। এছাড়া পেঁয়াজ আমদানির জন্য এরই মধ্যে এলসি খুলেছে সরকারের বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। সরকারের এ সংস্থাটি তুরস্ক থেকে ১ লাখ টন পেঁয়াজ আনছে। যা রাজধানীসহ সারাদেশে খোলাবাজারে কম দামে বিক্রি করা হবে। এ ব্যাপারে টিসিবির মুখপাত্র হুমায়ুন কবির বলেন, খুব শিগগির টিসিবির এ পেঁয়াজ চলে আসবে। এতে পেঁয়াজের বাজার স্থিতিশীল হয়ে যাবে বলে আশা করছি।