মোবাইল ফোনে কলড্রপ ও ইন্টারনেটের ধীরগতি গ্রাহকদের বিরক্তি বাড়িয়ে তুলেছে। গ্রাহকরা হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ করলেও কাঙ্ক্ষিত সেবা না পাওয়ায় গ্রাহক অসন্তোষ বেড়েছে শতভাগ। নেটওয়ার্কের মানোন্নয়নের জন্য কোনো পদক্ষেপই নেওয়া হচ্ছে না। গতকাল শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক মানববন্ধনে বক্তারা এসব কথা বলেন। টেলিকম নেটওয়ার্কের মানোন্নয়ন ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানসমূহকে প্রতিযোগিতায় আনার দাবিও জানানো হয়েছে। বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশন এই মানববন্ধনের আয়োজন করে।
মানববন্ধনে অংশ নিয়ে সিপিবির সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স সংগঠনের দাবির প্রতি সংহতি জানিয়ে বলেন, করোনার মধ্যে সবকিছুই চলে কিন্তু চলে না শুধু শিক্ষাব্যবস্থা। শিক্ষাখাত আজ ধনীদের দখলে। উচ্চমূল্যের ডেটা ও উচ্চমূল্যের ডিভাইস দরিদ্র জনগোষ্ঠীরা কিনতে পারছে না। কিন্তু সরকার এ বিষয়ে আন্তরিক হচ্ছে না। তিনি বলেন, টেলিটককে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় না এনে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। প্রাকৃতিক সম্পদ তরঙ্গকে কুক্ষিগত করে রেখে নেটওয়ার্ক ব্যবস্থাকে ভেঙে ফেলার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
সংগঠনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, ৯০ দশকের পর ২জি টেলিকম সেবার দ্বার উন্মুক্ত হওয়ার পর এ সেবার গ্রাহকসংখ্যা বাড়তে থাকে। প্রযুক্তির পরিবর্তন ও চাহিদা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে এ সেবার ওপর মানুষ নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। ২০১৩ সালে ৩জি প্রযুক্তির ইন্টারনেট ও ২০১৮ সালে ৪জি ইন্টারনেট সেবা চালু করা হয়। বর্তমানে সক্রিয় সিম রয়েছে ১৬ কোটি ৩৪ লাখ। ইন্টারনেট ব্যবহারকারী বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০ কোটি ২১ লাখ ১৩ হাজার। অথচ সেবার মান কমেছে প্রায় ৪৫ শতাংশ। ইন্টারনেটের গতি কমে দাঁড়িয়েছে ২ থেকে ৩ এমবিপিএস। অথচ চাহিদা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০ এমবিপিএস গতির।
এর কারণ জানতে গত ২৫ জুলাই নিয়ন্ত্রক কমিশন, অপারেটরদের শীর্ষ কর্তাব্যক্তি, বিশেষজ্ঞরা, সাংবাদিকদের নিয়ে আলোচনায় একটি বিষয় সকলেই স্বীকার করেছেন, স্বল্প তরঙ্গ ব্যবহারের কারণেই নেটওয়ার্কের মান এত খারাপ হয়েছে। অপারেটরদের দাবি, ৩জি বিনিয়োগের অর্থ ওঠার আগে ৪জিতে বিনিয়োগ তাদেরকে চ্যালেঞ্জের মধ্যে ফেলেছে। এছাড়া ১ হাজার কোটি টাকা ১ মেগাহার্জ তরঙ্গ কিনে বিনিয়োগ করার সামর্থ্য একটি অপারেটরের থাকলেও অন্য অপারেটরদের নেই। মানববন্ধনে আরো বক্তব্য দেন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী আবু সালেহ, বাংলাদেশ কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ইয়ারুল ইসলাম, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবু বককর সিদ্দিক, কেন্দ্রীয় সদস্য আমানউল্লাহ মাহফুজ প্রমুখ।
