মহাসড়কের মধ্যখানে বৈদ্যুতিক খুঁটি!

আপডেট : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২১:১০

চার লেনের উন্নয়নকাজে ধীরগতি

মো. লুত্ফুর রহমান, কুমিল্লা প্রতিনিধি

কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের মধ্যখানে থাকা বৈদ্যুতিক খুঁটি না সরানোর কারণে চার লেন মহাসড়কের উন্নয়নকাজ ব্যাহত হচ্ছে। সড়কের ওপর বিদ্যুতের খুঁটি রেখেই কোনো কোনো অংশে চলছে ঢালাইয়ের কাজ। সওজ কর্তৃপক্ষ বিদ্যুত্ বিভাগের কাছে একাধিকবার তাগাদা দিলেও খুঁটি সরানো হয়নি। এছাড়া সড়কের দুই পাশের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, টেন্ডার জটিলতা এবং কোনো কোনো জায়গায় ভূমি অধিগ্রহণ হয়নি এখনো। এসব জটিলতার কারণে মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ কাজে ধীরগতি দেখা দিয়েছে। সওজ কর্তৃপক্ষ ও প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

কুমিল্লা সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালের ৩ অক্টোবর কুমিল্লা নগরীর টমছম ব্রিজ থেকে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ পর্যন্ত ৫৯ কিলোমিটার সড়কে চার লেন প্রকল্প নেওয়া হয়। এর মধ্যে কুমিল্লা অংশে ৪৫ কিলোমিটার ও নোয়াখালী অংশে ১৪ কিলোমিটার। চার লেনের ঐ মহাসড়ক নির্মাণে ২ হাজার ৩০ কোটি ৬৩ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। চলতি বছরের ৩০ জুন প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু সড়ক সম্প্রসারণের ফলে প্রকল্পস্থলে থাকা বিদ্যুতের খুঁটিগুলো এখনো না সরানোর কারণে উন্নয়নকাজ ব্যাহত হচ্ছে। সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, কুমিল্লা নগরীর টমছম ব্রিজ থেকে জেলার সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর পর্যন্ত সড়কের মধ্যখানে ১০ কিলোমিটার এলাকায় শতাধিক বৈদ্যুতিক খুঁটি রয়েছে। এর মধ্যে সড়কের জাঙ্গালিয়া ও আশ্রাফপুর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় সড়কের পাশে অন্তত অর্ধশত বৈদ্যুতিক খুঁটি আছে। খুঁটির চারদিকে জায়গা খালি রেখেই সড়ক পাকা করা হয়েছে। একই অবস্থা দেখা গেছে সদর দক্ষিণ উপজেলার পদুয়ার বাজার, শ্রীমন্তপুর, বিজয়পুর রেলক্রসিং পার হয়ে পাকা সেতু এলাকা পর্যন্ত। বৈদ্যুতিক খুঁটির কারণে সেখানে উন্নয়নকাজে ধীরগতি দেখা গেছে। এই রুটে চলাচলকারী উপকূল ট্রান্সপোর্টের পরিচালক অধ্যাপক কবির আহমেদ ও শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক কাজী মোতাহের হোসেন বলেন, ‘বিদ্যুতের খুঁটির কারণে বাস টার্মিনালে বাস ঢুকতে কষ্ট হচ্ছে এবং সড়কের মধ্যখানে ও যত্রতত্র খুঁটি থাকায় গাড়ি চালাতে চালকদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। যে কোনো সময় দুর্ঘটনায় বিদ্যুত্ সঞ্চালন লাইন ছিঁড়ে প্রাণহানিরও আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া কাজের ধীরগতির কারণে এ সড়কে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।’

কুমিল্লা-নোয়াখালী চার লেন মহাসড়ক প্রকল্পের পরিচালক ও সওজ-কুমিল্লা জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. শওকত আলী বলেন, ‘বিদ্যুত্ উন্নয়ন বোর্ডকে সওজের পক্ষ থেকে একাধিকবার চিঠি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তারা খুঁটিগুলো অপসারণ করে না নেওয়ায় উন্নয়নকাজ ব্যাহত হচ্ছে।’ বিদ্যুত্ উন্নয়ন বোর্ড (বিউবো) কুমিল্লার প্রধান প্রকৌশলী মো. মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, ‘লাইন ও খুঁটি সরাতে অনেক টাকার প্রয়োজন। প্রক্রিয়াগত কারণেও কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। আমরা খুঁটিগুলো সহসা সরিয়ে নেব।’ কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুত্ সমিতি (পবিস)-২ এর মহাব্যবস্থাপক মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘চার লেন প্রকল্পস্থল হতে আমাদের খুঁটি সরিয়ে নিয়েছি। এর পরও কোনো খুঁটি থাকলে সেগুলোও সরিয়ে নেওয়া হবে।’