কথা ও কাজের সমন্বয়হীনতাই সব ‘অসুখের’ মূল

আপডেট : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২১:৪৬

আফরোজা রোজা

আমাদের দৈনন্দিন জীবনে নিজেদের প্রয়োজনেই আমরা হাজারো মানুষের সঙ্গে পরিচিত হচ্ছি, ঘনিষ্ঠ হচ্ছি এবং প্রতিনিয়ত কোনো না কোনো বিষয়ে একে অপরের সাথে প্রতিশ্রুতিবদ্ধও হচ্ছি; কিন্তু উক্ত প্রতিশ্রুতির যথাযথ বাস্তবায়ন না হওয়ার দরুন আমাদের ব্যক্তিজীবন থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে গুরুতর সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। হরহামেশা আমরা প্রতিশ্রুতিহীনতার স্বীকার হচ্ছি নানাভাবে।

ধরুন, আপনি বাজারে গিয়েছেন আপনার নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ক্রয়ের উদ্দেশ্যে এবং আপনি যে দোকানেই যাচ্ছেন তারা তাদের প্রডাক্টকে ১০০ ভাগ ভালো বলে আপনার কাছে বিক্রি করছে অথচ আপনি বাড়ি এসে জিনিসটা ব্যবহার করতে গিয়ে দেখতে পাচ্ছেন আসলে জিনিসটার গুণমান ঠিক নেই। অনেকে তো আবার মেয়াদোত্তীর্ণ জিনিসও গছিয়ে দেয় ক্রেতার অসাবধানতার কারণে। এবার আপনি ভাবলেন থাক দোকানের জিনিস কিনবোই না আর। তার চেয়ে অনলাইন শপিংগুলোর জিনিসের মান ভালো। বরং ওগুলোই নেওয়া যায়; কিন্তু দিনশেষে আপনি আবার একই প্রতারণার স্বীকার হচ্ছেন। এর কারণ যেটা সেটা হলো—মানুষের প্রতি আপনার বিশ্বাস হারাচ্ছে, আপনার মানসিক পরিবর্তন আসছে এবং এর চরম বহিঃপ্রকাশ হিসেবে নৈতিকতার অবক্ষয় দেখা দিচ্ছে।

একজন পুলিশ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে আমাদের সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। অথচ আজকাল খুব সহজেই সাধারণ মানুষকে নানাভাবে হেনস্তা হতে হচ্ছে পুলিশ কর্তৃক। যদিও এই সংখ্যা নগণ্য তবুও এর প্রভাব ছড়িয়ে পড়ছে অন্যদের ওপরও। এছাড়াও আমাদের দেশের বেশির ভাগ ডাক্তারের ক্ষেত্রেও প্রায় একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটতে দেখা যাচ্ছে। নিজেদের দেওয়া প্রতিশ্রুতির ব্যত্যয় ঘটিয়ে তারাও হয়ে উঠছে ডাকাতরূপী ডাক্তার। অথচ সাধারণ মানুষ তাদেরকে ঈশ্বরজ্ঞান করে থাকেন। আর আমাদের জাতীয় নির্বাচন আসলেই দেখতে পাই প্রচার-প্রচারণা ও প্রতিশ্রুতির মিথ্যা আস্ফাালন। যে কোনো প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ তাদের জীবদ্দশায় বস্তা বস্তা মিথ্যা প্রতিশ্রুতির গ্যাঁড়াকলে পড়ে নিজের তথা দেশের ক্ষতি করছেন। অনেক সময় প্রতিশ্রুতির আড়ালে হারিয়ে গেছে যোগ্যতম ব্যক্তিটি এবং এই ধারা চলে আসছে এখন পর্যন্ত। তাই ভুল মানুষকে বেছে নিয়ে নিজের মূল্যবান ভোট দিয়ে জয়ী করার পর উক্ত প্রার্থীর আসল রূপ সামনে আসছে। অথচ পরবর্তীকালেও শুধু বিশ্বাস করে ব্যক্তিটি একই ভুল বারংবার করে চলেছে।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছিলেন, ‘মানুষের ওপর বিশ্বাস হারানো পাপ।’ অথচ আজকের দিনে দাঁড়িয়ে কেবলই মনে হচ্ছে, মানুষের ওপর বিশ্বাস রাখাটা বড় পাপ ও দায় হয়ে যাচ্ছে দিনকে দিন। তাই এ পৃথিবীতে বাস করতে গেলে প্রতিটা মানুষের পাশে প্রতিটা মানুষকে দাঁড়ানোর মানসিকতা তৈরি করতে হবে। নিজেদের নৈতিকতার উত্কর্ষতা সাধনের জন্য প্রতিশ্রুতিগুলোকে সম্মান করতে হবে। তবেই না আমরা একটা সুন্দর সুশীল সমাজ তথা রাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখতে পারব। সুতরাং প্রতিটা ব্যক্তির উচিত প্রতিশ্রুতিগুলোর যথাযথ বাস্তবায়ন করে নিজ নিজ জায়গা থেকে নিজেদের মূল্যবোধ, নৈতিকতার উন্নয়ন সাধন করা।

n লেখক :শিক্ষার্থী, ইংরেজি বিভাগ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়