কৃষিজমি ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার উপক্রম
সোনারগাঁও (নারায়ণগঞ্জ) সংবাদদাতা
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে বারদীর নুনেরটেক এলাকায় ইজারা ছাড়াই অবৈধভাবে রাতের আঁধারে প্রায় ৩০-৩৫টি ড্রেজার বসিয়ে মেঘনা নদীর তীরবর্তী স্থান ও কৃষিজমির কাছ থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এভাবে বালু উত্তোলনের ফলে এরই মধ্যে উপজেলার খাসেরচর, ভুরভুরিয়া, ভাটিবন্ধর ও সুলতাননগর গ্রাম নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। বর্তমানে মালিগাঁও, হাড়িয়া, গোবিন্দি হাড়িয়া, বৈদ্যেপাড়া, সোনামই, নুনেরটেক গুচ্ছগ্রামসহ বিভিন্ন গ্রাম হুমকির মুখে রয়েছে।
উপজেলার মেঘনা নদীর মধ্যখানে জেগে ওঠা চর নুনেরটেক ও এর তীরবর্তী বালুমহাল ইজারায় স্থগিতাদেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। এ স্থগিতাদেশের ফলে প্রশাসন বালুমহালটি ইজারা দিতে পারবে না। কিন্তু প্রতিদিন রাতের আঁধারে নুনেরটেক এলাকায় লাখ লাখ ঘনফুট বালু কেটে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ফলে সাধারণ কৃষকের কৃষিজমি ও বাড়িঘর নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে।
অভিযোগ উঠেছে, মেঘনা উপজেলার চালিভাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান লতিফ সরকার, তার ভাতিজা জাহাঙ্গীর, আমির, চালিভাঙ্গা ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি সানাউল্লাহ, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাইয়ুমসহ ৫০-৬০ জনের একটি সিন্ডিকেট পৃথকভাবে দীর্ঘদিন ধরে মেঘনা নদী থেকে প্রতিদিন অবৈধভাবে লাখ লাখ ঘনফুট বালু উত্তোলন করছে।
তবে চালিভাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ সরকার বলেন, ‘সরকারের কাছ থেকে বৈধভাবে ইজারা নিয়ে আমরা বালু উত্তোলন করে থাকি। আমাদের মহাল ছাড়া নুনেরটেক এলাকায় আমরা বালু উত্তোলন করি না। তবে যুবলীগ নেতা সানাউল্লাহ ও কাইয়ুম ইজারা ছাড়া মেঘনা নদীতে বালু উত্তোলন করছে।’
চালিভাঙ্গা ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি সানাউল্লাহ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমরা সোনারগাঁও অঞ্চলে বালু উত্তোলন করি না। মেঘনা উপজেলা অঞ্চলে আমাদের ড্রেজার থাকে।’
সোনারগাঁও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আতিকুল ইসলাম জানান, অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে ছয় জনকে সাজা দেওয়া হয়েছে। অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গেলে অস্ত্রধারীরা হামলার চেষ্টা করে।
