কর ব্যবস্থাপনায় সংস্কার চায় বিডা

আপডেট : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২২:২৫

ব্যবসা সহজ করার সূচকে অগ্রগতিতে দেশের বিদ্যমান করহার এবং কর আদায় পদ্ধতিসহ সামগ্রিক আয়কর, ভ্যাট ও শুল্ক ব্যবস্থাপনাকে অন্যতম প্রতিবন্ধকতা হিসেবে মনে করা হচ্ছে। এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কথা হলেও প্রত্যাশিত অগ্রগতি হয়নি। সরকার চাইছে—আগামী এক বছরের মধ্যে সহজে ব্যবসা করার আন্তর্জাতিক সূচকে বড় অগ্রগতি আনতে। এ লক্ষ্যে এনবিআরের কর পরিশোধসহ সার্বিক ব্যবস্থাপনাকে ব্যবসাবান্ধব করতে এ খাতে বেশকিছু সংস্কার করার পক্ষে মত দিয়েছে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)। বিডার সম্প্রতি নেওয়া এ ধরনের একটি কর্মপরিকল্পনা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডেও (এনবিআর) পাঠানো হয়েছে।

বিশেষত কর পরিশোধ ব্যবস্থাপনাকে আরো সহজ করার মাধ্যমে সময় কমিয়ে আনা, নিরীক্ষা ব্যবস্থাকে আরো কার্যকর করা, অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল ও কর পরিশোধকে বাধ্যতামূলক করা, নতুন আয়কর আইনকে সহজ ও যুগোপযোগী করা, ঝুঁকির বিবেচনায় ব্যবসায়ের প্রোফাইল তৈরি করার মতো বিষয় উঠে এসেছে বিডার কর্মপরিকল্পনায়। এছাড়া করহার কমানো, ভ্যাট রিফান্ড পাওয়ার (জমা দেওয়া ভ্যাট ফেরত প্রযোজ্য হলে) প্রক্রিয়া ও সময় কমিয়ে আনার কথাও বলা হয়েছে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে এসব ইস্যু বাস্তবায়ন করতে হবে।

এসব প্রত্যেকটি ইস্যুর সঙ্গে নির্দিষ্ট স্কোর রয়েছে। ফলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বাস্তবায়ন করা হলে বিশ্বব্যাংকের সহজে ব্যবসা করার সূচকে বাংলাদেশের প্রত্যাশিত অগ্রগতি হবে বলে আশা করছে বিডা। বিশ্বের কোন দেশে ব্যবসা করা অপেক্ষাকৃত সহজ, প্রতি বছর তার একটি তালিকা করে থাকে বিশ্বব্যাংক। এটি সংস্থাটির ‘ইজ অব ডুয়িং বিজনেস’ সূচক নামে পরিচিত। এই সূচকের ওপর ভিত্তি করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের  প্রতিষ্ঠানগুলো বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে। ফলে প্রতি বছর প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের এই প্রতিবেদনটি যথেষ্ট গুরুত্ব পায়। দুঃখজনকভাবে এই সূচকের তলানিতে বাংলাদেশের অবস্থান। বর্তমানে বিশ্বের ১৯০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৬৮তম। গত কয়েক বছর ধরে নানামুখী চেষ্টা করা সত্ত্বেও এতে প্রত্যাশিত অগ্রগতি হয়নি।

কর পরিশোধের র্যাংকিংয়ে বাংলাদেশ প্রতিযোগী ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, ভারত, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার তুলনায় অনেক পিছিয়ে। কর পরিশোধের সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ১৫১তম। একই সময়ে ভারতের ১১৩, ভিয়েতনাম ১০৯, থাইল্যান্ড ৬৮, মালয়েশিয়া ৮০, ইন্দোনেশিয়া ৮১ এবং সিঙ্গাপুরের অবস্থান সাতে। কর পরিশোধসংক্রান্ত কার্যক্রমে যে সময় ব্যয় হয়, তাতে বাংলাদেশের অবস্থান দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর চেয়ে পেছনে। এর চারটি সূচকের সবগুলোতেই বাংলাদেশ পিছিয়ে রয়েছে। বছরে কর পরিশোধসংক্রান্ত কার্যক্রমে কোম্পানির সময় লাগে ৪৩৫ ঘণ্টা। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর এতে গড়ে ব্যয় হয় ২৭৩ ঘণ্টা আর উন্নত দেশগুলোর প্রয়োজন হয় গড়ে ১৫৮ ঘণ্টা। 

অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, ব্যবসা সহজ করার ক্ষেত্রে বিভিন্ন ক্ষেত্রে দৃশ্যমান অগ্রগতি প্রয়োজন। ব্যবসা সহজ করার সূচকে অগ্রগতি হলে স্থানীয় এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগে আগ্রহী হবে। এজন্য করসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে যেসব বাধা রয়েছে, তা দূর করতে হবে। ভ্যাট-ট্যাক্সের বাইরে শুল্ক ও বন্দরসংক্রান্ত ইস্যুও আমদানি-রপ্তানিতে গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশে এখনো আমদানি রপ্তানিতে শুল্ক কার্যক্রমে এশিয়ার অন্যান্য দেশগুলোর চেয়ে গড়ে বেশি সময় লাগছে। অন্যদিকে গত কয়েক বছরে অটোমেশনে কিছু উদ্যোগ নেওয়া হলেও প্রত্যাশিত ফল আসেনি।

পলিসি রিসার্স ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর ইত্তেফাককে বলেন, বিডার নেওয়া কর্মপরিকল্পনা যৌক্তিক। এসব কাজ আরো আগেই করা উচিত ছিল। তবে বর্তমান বাস্তবতায় আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই এসব কাজ যে হয়ে যাবে, তা নয়। এজন্য সময় লাগবে।