চট্টগ্রাম মহানগরীর ৪৯টি হাসপাতাল ও ক্লিনিককে তিন মাসের সময় দিয়ে চিকিত্সা বর্জ্য পরিশোধনাগার স্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম মহানগরীতে ৫২টি হাসপাতাল ও ক্লিনিকের মধ্যে মাত্র তিনটি হাসপাতালে তরল বর্জ্য পরিশোধনাগার রয়েছে বলে জানানো হয়। পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে জানানো হয়, এই তিনটির বর্তমান অবস্থা সরেজমিনে দেখা হবে। এগুলো বাস্তবিক কার্যকর কি না চলতি মাসের শুরুতে চিকিত্সা বর্জ্য (ব্যবস্থাপনা ও প্রক্রিয়াজাতকরণ) বিধিমালা ২০০৮-এর আলোকে চট্টগ্রাম মহানগরীর স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, সিভিল সার্জন এবং পরিবেশ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের নির্দিষ্ট কমিটির এক সভায় নগরীর সব হাসপাতাল ও ক্লিনিকের তরল বর্জ্য পরিশোধনাগার নিশ্চিত করতে বলা হয়। এক্ষেত্রে হাসপাতাল ও ক্লিনিক অনুযায়ী ইটিপি, ডব্লিউটিপি স্থাপন করতে হবে।সাম্প্রতিক সময়ে কোভিড-১৯-এর কারণে দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোর পরিচালনায় অব্যবস্থাপনা ও লাইসেন্স ছাড়া দিনের পর দিন সেবার নামে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ার বেশ কয়েকটি তথ্য উদ্ঘাটিত হয়। এর ফলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগসমূহের অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারীর অনিয়ম ও দুর্নীতির তথ্য বেরিয়ে আসে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশের বিভিন্ন এলাকার হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোর দিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও পরিবেশ অধিদপ্তরের নজরদারি বাড়তে দেখা যায়। এরই মধ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সব হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে তাদের প্রতিষ্ঠানের বিপরীতে লাইসেন্স নবায়নের সময় বেঁধে দেয়। আগামী কিছুদিনের মধ্যে তাদের লাইসেন্স নবায়ন কাজ সম্পন্ন হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে স্বাস্থ্য নীতিমালা ও পরিবেশ আইন অনুযায়ী প্রতিটি হাসপাতালের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য পরিশোধনাগার থাকতে হবে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও পরিবেশ অধিদপ্তর কোনোপ্রকার পরিশোধনাগার ছাড়াই লাইসেন্স ও পরিবেশ ছাড়পত্র প্রদান করে আসছে। হাসপাতালসমূহের রোগীর কঠিন ও তরল বর্জ্য পরিশোধনের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় পরিবেশকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিসাধন করে আসছে। কারণ প্রতিদিনকার ময়লা, আবর্জনা, রক্ত, অন্যান্য কাটা-ছেঁড়ার বর্জ্য কোনোপ্রকার ব্যবস্থাপনা ছাড়াই ড্রেন, নালা-নর্দমাসহ পানিবাহিত হয়ে পুরো শহরে ছড়িয়ে পড়ে।
পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম মহানগরীর পক্ষ থেকে সম্প্রতি ইস্যু করা এক পত্রে ৪৯টি হাসপাতাল ও ক্লিনিককে আগামী ১২ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রয়োজনীয় তরল বর্জ্য পরিশোধনাগার তথা প্রয়োজনীয় ইটিপি, ডব্লিউটিপি, এসটিপি স্থাপনের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম মহানগরীর পরিচালক মোহাম্মদ নূরুল্লাহ নূরী ইত্তেফাককে জানান, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তরল বর্জ্য শোধনাগার নির্মাণ করা না হলে আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
