স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের গাড়িচালক আব্দুল মালেক (৬৩)। তৃতীয় শ্রেণির সাধারণ কর্মচারী। অথচ ঢাকায় রয়েছে তার একাধিক বিলাসবহুল বাড়ি। ব্যাংকে অঢেল টাকা। তার অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধান করতে গিয়ে হতবাক র্যাব কর্মকর্তারা। বৈধ চাকরির পাশাপাশি তার রয়েছে জাল নোট, অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবসা। এমনকি বেশ কিছু চাঁদাবাজির অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। গতকাল রবিবার রাতে রাজধানীর তুরাগ থেকে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রসহ তাকে গ্রেফতার করেছে র্যাব। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বিপুল অবৈধ সম্পদের কথা তিনি স্বীকার করেছেন।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে মালেকের স্ত্রীর নামে দক্ষিণ কামারপাড়ায় দুটি সাততলা বিলাসবহুল ভবন, ১৫ কাঠা জমিতে একটি ডেইরি ফার্ম, ধানমন্ডির হাতিরপুল এলাকায় সাড়ে চার কাঠা জমিতে একটি নির্মাণাধীন ১০ তলা ভবনের সন্ধান পাওয়া গেছে। বিভিন্ন ব্যাংকে মালেক ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে অঢেল টাকা থাকার তথ্য মিলেছে।
র্যাব-১-এর অধিনায়ক (সিও) লেফটেন্যান্ট কর্নেল শাফী উল্লাহ বুলবুল বলেন, ‘আব্দুল মালেক পেশায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিবহন পুলের একজন চালক। তার শিক্ষাগত যোগ্যতা অষ্টম শ্রেণি। ১৯৮২ সালে সাভার স্বাস্থ্য প্রকল্পে চালক হিসেবে যোগদান করেন। পরে ১৯৮৬ সালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিবহন পুলে চালক হিসেবে চাকরি শুরু করেন। বর্তমানে তিনি প্রেষণে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা অধিদপ্তরে কর্মরত। কিন্তু এই চাকরির বাইরে তিনি দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ অস্ত্র ব্যবসা, জাল নোট ব্যবসা করে আসছেন এবং অস্ত্রের মাধ্যমে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন বলেও আমাদের কাছে স্বীকার করেছেন।’
গতকাল রাতে র্যাবের একটি দল তুরাগ থানার কামারপাড়ায় (বামনেরটেক, বাসা নম্বর-৪২, হাজী কমপ্লেক্স) অভিযান চালায়। সেখান থেকে মালেককে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের সময় তার কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগজিন, পাঁচ রাউন্ড গুলি, দেড় লাখ বাংলাদেশি জাল নোট, একটি ল্যাপটপ ও মোবাইল জব্দ করা হয়। তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কার্যকলাপের অভিযোগের তদন্ত করছিল র্যাব।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল শাফী উল্লাহ বুলবুল বলেন, অনুসন্ধানে জানা যায়, মালেক তার এলাকায় সাধারণ মানুষকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে শক্তির দাপট দেখিয়ে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন এবং জনজীবন অতিষ্ঠ করে তুলেছেন। অনুসন্ধানে তার আয়-ব্যয়ের সঙ্গে দৈনন্দিন জীবনযাত্রার মান ও সম্পদের বিস্তার অসামঞ্জস্যতা পাওয়া যায়। এক জন তৃতীয় শ্রেণির সাধারণ কর্মচারী হয়েও ঢাকার বিভিন্ন স্থানে তার একাধিক বিলাসবহুল বাড়ি, গাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন ব্যাংকে নামে-বেনামে বিপুল পরিমাণে অর্থ গচ্ছিত আছে বলে জানা যায়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে র্যাব-১ বিষয়টি আমলে নিয়ে দ্রুত ছায়া তদন্ত করে তাকে গ্রেফতার করে।
শাফী উল্লাহ বুলবুল বলেন, মালেকের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও জাল টাকার ব্যবসায় জড়িত থাকা এবং অস্ত্র ও জাল টাকা উদ্ধারের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট আইনে পৃথক দুটি মামলা হবে। তাকে রাজধানীর তুরাগ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগের ব্যাপারে র্যাবের অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে।
