দেশ জুড়ে আলোচিত মামলাগুলোর বিচার চলছে দ্রুতগতিতে। এর মধ্যে রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. সাহেদ করিম ও নরসিংদী যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক পাপিয়া সুলতানার বিরুদ্ধে করা পৃথক অস্ত্র মামলা দুটির বিচার শেষ পর্যায়ে বলে জানা গেছে। এছাড়া বুয়েটের ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় ২৫ আসামির বিরুদ্ধে আজ সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হচ্ছে ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১-এ।
জানা গেছে, করোনা ভাইরাসজনিত উদ্ভূত পরিস্থিতিতে এসব আলোচিত মামলার তদন্ত ও বিচার থেমে থাকলেও কোর্ট খুলে দেওয়ায় এখন তা হচ্ছে দ্রুততার সঙ্গে। আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিচারাধীন এসব মামলার রায়ের দিকে তাকিয়ে আছে দেশের জনগণ। কারণ সকলেই চায় অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি। যাতে কিছুটা হলেও তা সমাজের সবার কাছে একটা বার্তা পৌঁছে দেয়।
আদালত সূত্র জানায়, করোনা টেস্ট জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত রিজেন্টের সাহেদ করিমের বিরুদ্ধে করা অবৈধ অস্ত্র মামলার বিচার শেষ পর্যায়ে। মাত্র ছয় কার্যদিবসে বিরতিহীনভাবে সাক্ষ্যগ্রহণ করে মামলাটি যুক্তিতর্ক পর্যায়ে নিয়ে এসেছেন ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েস। আজ রবিবার এ মামলায় সাহেদের পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করবেন তার আইনজীবীরা। এরপর রাষ্ট্রপক্ষ জবাব দিলে মামলাটি রায়ের জন্য দিন ধার্য করে দেবেন বিচারক।
এছাড়া ভুয়া করোনা টেস্টের মামলায় জেকেজির চেয়ারম্যান ডা. সাবরিনা আরিফ চৌধুরী ও তার স্বামী আরিফ চৌধুরীসহ আট জনের বিরুদ্ধে করা মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ আদালতে অব্যাহত রয়েছে।
সূত্র আরো জানায়, ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানের রেশ না কাটতেই গ্রেফতার হয়েছিলেন নরসিংদী যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক পাপিয়া সুলতানা ও তার স্বামী মতি সুমন। তাদের বিরুদ্ধে মাদক, অবৈধ অস্ত্রসহ নানা অভিযোগে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় অস্ত্র ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে একাধিক মামলা হয়। এর মধ্যে অস্ত্র মামলায় পাপিয়া ও তার স্বামী মতি সুমনের বিচার শেষ পর্যায়ে। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর ঐ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য দিন ধার্য করেছে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত।
এদিকে বুয়েটের ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় আজ সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হচ্ছে। সকল আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে ট্রাইব্যুনালের বিচারক আবু জাফর মো. কামরুজ্জামান বলেছিলেন, ২০ সেপ্টেম্বর রবিবার থেকে বিরতিহীনভাবে চলবে এ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ। করোনায় দীর্ঘ পাঁচ মাস বন্ধ ছিল মামলাটির বিচার কাজ। এখন কোর্ট খুলে দেওয়ায় থেমে থাকা বিচারের চাকা ঘুরতে শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।
দেশ জুড়ে আলোচিত আরেক ঘটনা ছিল বরগুনার রিফাত শরীফ হত্যা। ঐ হত্যা মামলার রায় হচ্ছে ৩০ সেপ্টেম্বর। গত পহেলা জানুয়ারি রিফাতের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নিসহ দশ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে আদালত। এরপর তিন মাসে ৭৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করে মামলাটি রায়ের জন্য দিন ধার্য করে দেওয়া হয়।
প্রসঙ্গত, এর আগে সিলেটের রাজন ও খুলনার রাকিব হত্যা মামলার বিচারকাজ অতি দ্রুততার সঙ্গে শেষ করে বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন নিম্ন আদালতের বিচারকরা। আলোচিত ঐ দুটি হত্যাকাণ্ড সংঘটনের চার মাসের মধ্যে মামলার বিচারের প্রথম ধাপ সম্পন্ন হয়েছিল।
