মাদারীপুর সদর উপজেলার রাস্তি ইউনিয়নের পূর্ব হাজরাপুর গ্রামে পারিবারিক কলহের জের ধরে বসতঘরে আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে শ্বশুরের বিরুদ্ধে। গত শনিবার গভীর রাতে এ ঘটনা ঘটে। ঘরে দাদার দেওয়া আগুনে নাতনি মিম আক্তারের (৬) পিঠ সম্পূর্ণ ঝলসে গেছে। শিশুটি বর্তমানে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে চিকিত্সাধীন। ঘটনার পর শ্বশুর রাজ্জাক শেখ বাড়ি থেকে পালিয়ে যান।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রাস্তি ইউনিয়নের পূর্ব হাজরাপুর গ্রামের রাজ্জাক শেখের ছেলে আসলাম শেখ ছয় বছর আগে মালয়েশিয়া যান। এরপর থেকে রাজ্জাক শেখের সঙ্গে পুত্রবধূ সম্পা আক্তারের বিরোধ চলে আসছে। সম্পার শ্বশুর তাকে বাড়ি ছেড়ে যেতে চাপ দেন। সম্পা ছেলে-মেয়েদের নিয়ে বাড়ি ছাড়বে না বলে জানায়। শনিবার বিকালে রাজ্জাক শেখের মেয়ে বাড়িতে মিস্ত্রী নিয়ে আসে ভাইয়ের স্ত্রী, ছেলে-মেয়েদের ঘর তুলে দেওয়ার জন্য। এ সময় রাজ্জাক শেখ পুনরায় তার মেয়ে ও পুত্রবধূকে বাড়িতে ঘর তুলতে বাধা দেয় ও তাদের মধ্যে প্রচণ্ড ঝগড়া হয়।
শনিবার রাতে ঘরে আগুন দেখে সম্পা চিত্কার করলে আশপাশের লোকজন এসে তাদের উদ্ধার করে এবং আগুন নিভিয়ে ফেলে। এ সময় ঘরের মালামালের সঙ্গে শিশু মিম আক্তার আগুনে পুড়ে যায়।
সম্পা আক্তার বলেন, অনেকদিন ধরে আমার শ্বশুর আমাদের বাড়ি থেকে চলে যেতে বলে। বাড়ি না ছাড়লে আগুন দিয়ে ঘর পুড়িয়ে ফেলার হুমকিও দিতেন তিনি। শনিবার রাত ৩টার দিকে আমার ঘরের দরজা বন্ধ করে আগুন ধরিয়ে দেন তিনি। আমার চিত্কারে আশপাশের মানুষ এসে আমাদের ছেলেমেয়েকে উদ্ধার করে। আমার মেয়েটার পিঠ আগুনে পুড়ে গেছে।
রাস্তি ইউনিয়ন পরিষদের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার গোলাম মাওলা বলেন, পারিবারিক দ্বন্দ্ব চলে আসছিল শ্বশুর ও পুত্রবধূর মধ্যে। এ ঘটনায় শ্বশুর, শাশুড়ি ও পুত্রবধূকে নিয়ে আমরা অনেকবার বসেছি। আগুন দেওয়ার ঘটনাটি খুব দুঃখজনক।
মাদারীপুর সদর থানার ওসি মো. কামরুল ইসলাম মিঞা বলেন, আগুনের ঘটনা শুনে আমি ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছিলাম। যার ঘরে আগুন দেওয়া হয়েছে তিনি বিদেশে থাকেন। সেখান থেকে ফোনে আমাদের জানিয়েছেন এটা পারিবারিক বিষয়।
মাদারীপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. নুরুল ইসলাম বলেন, দগ্ধ শিশুটিকে চিকিত্সা দেওয়া হচ্ছে। এখন পর্যন্ত শিশুটির অবস্থা আমাদের নিয়ন্ত্রণের মধ্যে আছে।
