প্রতিবেশী ও নিকট প্রতিবেশী দেশসমূহের সঙ্গে বাংলাদেশের বর্তমান সম্পর্কের চ্যালেঞ্জসমূহ চিহ্নিত করে পদক্ষেপ গ্রহণ এবং সম্পর্ক উন্নয়নের প্রক্রিয়া জোরদারের সুপারিশ করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। গতকাল রবিবার সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠকে এই সুপারিশ করা হয়। বৈঠকে সম্পর্ক উন্নয়নের প্রক্রিয়া জোরদারে করণীয় নিয়েও আলোচনা হয়।
কমিটির সভাপতি মুহাম্মদ ফারুক খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে কমিটির সদস্য পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন ও প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, নুরুল ইসলাম নাহিদ, গোলাম ফারুক খন্দকার প্রিন্স, হাবিবে মিল্লাত, নাহিম রাজ্জাক, কাজী নাবিল আহমেদ ও নিজাম উদ্দিন জলিল (জন) অংশ নেন।
আন্তর্জাতিক রীতি অনুযায়ী কোনো মন্ত্রণালয় বিদেশি কোনো প্রতিষ্ঠান বা দেশ থেকে কোনো প্রকার উপহার, সম্মাননা বা সাহায্য গ্রহণের আগে যেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে পরামর্শ করে নেয়, বৈঠকে সেই সুপারিশ করা হয়। বাণিজ্য সম্প্রসারণে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে পারস্পরিক ব্যাবসায়িক প্রতিনিধিদলের নিয়মিত বৈঠক আয়োজন, স্মারক ডাকটিকিট প্রকাশ ও শীর্ষ পর্যায়ে মতামত বিনিময়ের সুপারিশও করে কমিটি। এছাড়া বিজিবি ও বিএসএফ দুই পক্ষই সীমান্ত দুর্ঘটনা শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছে বলে বৈঠকে জানানো হয়।
বৈঠকে জানানো হয়, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পলাতক খুনিদের দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে যথেষ্ট অগ্রগতি হয়েছে। অতিশিগিগর খুনিদের দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হবে।
বৈঠকে জানানো হয়, বন্ধুপ্রতিম যেসব দেশ কোভিড-১৯-এর ভ্যাকসিন আবিষ্কার করেছে এবং সফলভাবে পরীক্ষা চালিয়েছে, সেসব দেশের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে। বাজারে আসার সঙ্গে সঙ্গেই আমাদের দেশ পেয়ে যাবে বলে সংশ্লিষ্ট দেশসমূহ আশ্বস্ত করেছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দেশসমূহে বাংলাদেশি মিশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করছেন। এছাড়া আমাদের দেশে প্রতিষ্ঠিত ওষুধ প্রস্তুতকারী ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলো যদি কোভিড-১৯-এর ভ্যাকসিন আবিষ্কার ও পরীক্ষা চালিয়ে সফলতা অর্জন করে, তবে তাদের থেকেও সংগ্রহ করা যেতে পারে বলে কমিটি অভিমত ব্যক্ত করে।
