ঢাবির ছাত্রী ধর্ষণ মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু

আপডেট : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০০:১৫

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ধর্ষণের মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে। গতকাল রবিবার এ মামলায় সাক্ষ্য দেন ধর্ষিতা শিক্ষার্থীর বাবা। ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭-এর বিচারক বেগম মোসাম্মত্ কামরুন্নাহার সাক্ষ্যগ্রহণ করেন। এ সময় আদালতের কাঠগড়ায় ছিলেন আসামি মজনু। এদিকে সাক্ষ্যগ্রহণের সময় উদ্ধত আচরণ করেন আসামি। পরে তিনি কান্না জুড়ে দেন বলে জানান আইনজীবীরা।

মজনুর আইনজীবী রবিউল ইসলাম জানান, রুদ্ধদ্বার কক্ষে মজনুর আচরণ ছিল অস্বাভাবিক, উদ্ধত। তিনি কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে ক্ষুধার কথা বলে ভাত খেতে চান। তিনি বিচারককে বলতে থাকেন, আমারে মায়ের কাছে ফিরাইয়া দে, আমি মার কাছে যামু। কাঠগড়ায় তার সঙ্গে দাঁড়ানো অন্য এক জন হাজতি আসামি শান্ত হতে বললে তাকে মজনু দুইবার ঘুসি মারেন বলেও জানান এ আইনজীবী।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আফরোজা ফারহানা আহমেদ অরেঞ্জ বলেন, মজনুর ভয়াল রুদ্রমূর্তি দেখলাম আজ। ও আমাদের আইনজীবীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও গালাগাল করতে থাকে। তার অভিযোগ, তাকে বিনা কারণে আটকে রাখা হয়েছে।

শুনানি শেষে এজলাস থেকে পুলিশ সদস্যরা আসামি মজনুকে হাজতখানায় নেওয়ার সময় কাঁদতে কাঁদতে তিনি আদালত প্রাঙ্গণে লুটিয়ে পড়েন। তিনি বলতে থাকেন, আমি মায়ের কাছে যাব। কারাগারে যাব না। পুলিশ সদস্যরা তখন টেনে টেনে হাজতখানায় নিয়ে যান এ আসামিকে।

এদিকে বাদী জবানবন্দিতে তার মেয়ে কীভাবে মজনুকে শনাক্ত করছেন, তা বিচারকের সামনে তুলে ধরেন। এরপর তাকে জেরা করেন মজনুর আইনজীবী রবিউল ইসলাম। জেরা শেষে বিচারক পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য সোমবার দিন ধার্য করেন। গত ২৬ আগস্ট ঐ ছাত্রীকে ধর্ষণের মামলায় মজনুর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে আদালত।