ব্যবহারে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ, দেখতে সুন্দর, কম তেলে রান্না করা যায় আবার পরিষ্কার করতেও সুবিধা— মূলত এসব কারণে রন্ধনশিল্পীদের পছন্দের তালিকায় রয়েছে অ্যালুমিনিয়াম ও ননস্টিলের পণ্য। অথচ এসব পণ্য শরীরের জন্য হুমকিস্বরূপ। চিকিত্সকের মতে, অ্যালুমিনিয়ামে আছে ক্ষতিকর আয়ন। এসব অ্যালুমিনিয়াম পাত্রে কোনো কোডিং থাকে না। যার ফলে যখন অ্যালুমিনিয়ামের হাঁড়িতে হাতা, খুন্তি দিয়ে রান্না করা হয়—তখন অ্যালুমিনিয়ামের কণা বা আয়নগুলো ক্ষয়ে ক্ষয়ে খাবারের সঙ্গে মিশে যায়। রান্না করা খাবারের সঙ্গে তা আমাদের শরীরে প্রবেশ করে। শরীরে আয়নগুলো ধীরে ধীরে জমতে থাকে। শরীর থেকে আয়নগুলো বের হতে না পারলে শরীরের মধ্যে বিষক্রিয়া সৃষ্টি হয়ে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে! অ্যালুমিনিয়ামের আয়নগুলো মস্তিষ্কের টিস্যুগুলোর ক্ষতিসাধন করে। অ্যালঝাইমার্স রোগের অন্যতম কারণ এই অ্যালুমিনিয়ামের আয়ন। যা থেকে পরবর্তী সময়ে হাড়ে সমস্যা হতে পারে। আর ননস্টিলে থাকে টেফলন, সিলভারস্টোন, অ্যানোলন, টেফাল ইত্যাদি রাসায়নিক পদার্থ, যা খাবারের সঙ্গে মিশে খাবারকে দূষিত করে। টেফলন হচ্ছে এক ধরনের পলিমার, এতে ১৫টি বিষাক্ত গ্যাস রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, টেফলন ৬০০ ডিগ্রি তাপমাত্রায় ভাঙতে শুরু করে আর তৈরি হতে থাকে বিষাক্ত গ্যাস—যা কিডনি রোগ ও ক্যান্সার সৃষ্টির জন্য দায়ী। এছাড়া, এসব উপাদান বন্ধ্যাত্ব, ওজন বৃদ্ধি ও শিশুদের মস্তিষ্কের ক্ষতি করে। তাই স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ এমন তৈজসপত্র ব্যবহার আমাদের পরিহার করতে হবে। খাবারের প্রতি সচেতন হলেই শুধু চলবে না, কেমন পাত্রে খাবার তৈরি হচ্ছে—সেদিকেও লক্ষ রাখা জরুরি।
খন্দকার নাঈমা আক্তার নুন
প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ, দ্বিতীয় বর্ষ, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়
