পাটুরিয়া ঘাটে লাগামহীন চাঁদাবাজি
শহিদুল ইসলাম সুজন, মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি
দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ঘাট। এ ঘাটে পরিবহনের চাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ে ট্রাকচালকদের চাপা কান্না। তাদের অভিযোগ, পাটুরিয়া ঘাটে বিআইডব্লিউটিসির চাঁদাবাজি সামাল দিতে না পেরে তাদের পেশা পরিবর্তনের কঠিন সিদ্ধান্তের দিকে যেতে হচ্ছে। তারা চাঁদাবাজি বন্ধে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের ত্বরিত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সরেজমিনে দেখা যায়, সব ধরনের গাড়ি পারাপারের জন্য মাশুল নির্ধারণ থাকলেও তাতে মেলে না টিকিট। যাত্রীবাহী বাস ও অন্যান্য যানবাহনের বেলায় টিকিট প্রাপ্তিতে নির্ধারিত মাশুলের হার কিছুটা মানা হলেও পণ্যবাহী ট্রাক যেন বিআইডব্লিউটিসির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শকুনের কাছে মরা গবাদিপশুর মড়ি পাওয়ার মতো অবস্থা। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া, নদীভাঙন, তীব্র স্রোত, শুষ্ক মৌসুমে নাব্য সংকট এবং শীতকালে ঘন কুয়াশাজনিত কারণে যানবাহনের অতিরিক্ত চাপ হলেই তাদের পোয়াবারো। নানা অজুহাতে তখন সিরিয়াল, ওজন পরিমাপে স্কেল ও ফেরির টিকিট পাওয়া থেকে শুরু করে পদে পদে পোহাতে হয় ভোগান্তি। গুনতে হয় রসিদে নির্ধারিত অঙ্কের চেয়ে বাড়তি টাকা। আর এর কোনো সীমাবদ্ধতা নেই। ঘাটে যানজটের অবস্থা বুঝে চাঁদাবাজির দাবি বাড়ে লাফিয়ে লাফিয়ে। কখনো কখনো তা ২০০-৩০০ থেকে ৪ হাজার-৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ওঠে।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি)-এর অসাধু কিছু কর্মকর্তার যোগসাজশে সারা বছর চলে এ অনিয়ম। গণমাধ্যমে এ ব্যাপারে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে উচ্চ মহলের নজরদারিতে অবস্থা স্বাভাবিক হলেও দুই এক দিন পর তা ফিরে যায় আগের হালে।
বিআইডব্লিউটিসি অফিস সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন এই রুটে বিভিন্ন ধরনের প্রায় গড়ে ৫ থেকে ৮ হাজার যানবাহন পারাপার হয়। এর মধ্যে পণ্যবাহী ট্রাকের সংখ্যা ৫০০ থেকে ৮০০। সেই হিসাব মতে, প্রতি মাসে পাটুরিয়া ঘাটে কয়েক কোটি টাকার চাঁদাবাজি হয়।
প্রতিদিন এ ঘাট থেকে সরকার প্রায় কোটি টাকার রাজস্ব পেলেও যাত্রীদের ভোগান্তি দিনদিন বেড়েই চলছে। এ নিয়ে যাত্রী এবং শ্রমিকদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। বিআইডব্লিউটিসির পাটুরিয়া ঘাট শাখার ডিজিএম জিল্লুর রহমান জানান, চাঁদাবাজির অভিযোগে সম্প্রতি ঘাটের চার কর্মচারীকে বদলি করা হয়েছে। প্রয়োজনে আবারও বদলি করা হবে। এতেই সমস্যার সমাধান কিনা—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, টিকিট কাউন্টারে পুলিশ থাকে। চাঁদাবাজি দেখার দায়িত্ব তাদের। পালটা তিনি প্রশ্ন রাখেন, ‘পুলিশের সামনে চাঁদাবাজি হয় কীভাবে?’
পুলিশ সুপার রিফাত রহমান শামীম বলেন, ভুক্তভোগীরা মামলা করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। জেলা প্রশাসক এস এম ফোরদৌস বলেন, ‘আমরা চাঁদাবাজির সত্যতা পেয়েছি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হলে চার কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। অবস্থার পরিবর্তন না হলে পুনরায় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
