সপ্তাহের তৃতীয় কার্যদিবস গতকাল মঙ্গলবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সব কটি মূল্য সূচকের বড় পতন হয়েছে। সেই সঙ্গে কমেছে লেনদেনের পরিমাণ। এ নিয়ে পরপর দুই কার্যদিবস শেয়ারবাজারে বড় দরপতন হলো। আর টানা চার কার্যদিবস পতনের মধ্যে থাকল শেয়ারবাজার। বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গতকাল লেনদেনের শুরুতেই শেয়ারবাজারে বড় পতনের আভাস পাওয়া যায়। লেনদেনের শুরুতে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেনে অংশ নেওয়া বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমে যায়। ফলে প্রথম ১০ মিনিটেই ডিএসইর প্রধান সূচক ৪০ পয়েন্ট কমে যায়। তবে শেষ দিকে এসে আবার বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের দরপতন হয়। এতে দিনের লেনদেন শেষে সূচকের বড় পতন হয়। তাই ডিএসইর প্রধান মূল্য সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৪২ পয়েন্ট কমে ৪ হাজার ৯৭০ পয়েন্টে নেমে গেছে।
এর আগে গত সোমবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান মূল্য সূচক ৭৬ পয়েন্ট কমে, যা নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান হিসেবে অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল ইসলাম দায়িত্ব নেওয়ার পর সূচকের সব থেকে বড় দরপতন।
শেয়ারবাজারের ক্রান্তিকালে গত ১৭ মে বিএসইসির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেন অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল ইসলাম। দায়িত্ব নেওয়ার পর বন্ধ শেয়ারবাজারে ৩১ মে থেকে আবার লেনদেন শুরু করেন। তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর শেয়ারবাজারে উত্থান-পতনের প্রবণতা চলতে থাকে। ১৭ আগস্ট ডিএসইর প্রধান সূচক ৭৪ পয়েন্ট পড়ে যায়। এরপর ঘুরে দাঁড়ায় শেয়ারবাজার। এক মাসের বেশি সময় ধরে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা দেয় শেয়ারবাজারে। তবে গত সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস থেকে হঠাত্ পতনের প্রবণতা দেখা দিয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত টানা চার কার্যদিবস ডিএসইর প্রধান সূচক কমেছে।
প্রধান সূচকের পাশাপাশি পতনের মধ্যে পড়েছে অপর দুই সূচক। এর মধ্যে ডিএসই-৩০ আগের দিনের তুলনায় ১২ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৭১৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১১ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ১২৬ পয়েন্টে অবস্থান করছে। এর মাধ্যমে এ দুই সূচকও টানা চার কার্যদিবস কমল।
সূচকের এই পতনের দিনে ডিএসইতে অংশ নেওয়া ৭৫ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ২৫২টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২৯টির দাম। বাজারে লেনদেন হয়েছে ৭২৯ কোটি ৯২ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৯৭৭ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। সে হিসাবে আগের দিনের তুলনায় লেনদেন কমেছে ২৪৭ কোটি ৬৬ লাখ টাকা।
টাকার অঙ্কে ডিএসইতে সব থেকে বেশি লেনদেন হয়েছে বেক্সিমকো ফার্মা। কোম্পানিটির ৩০ কোটি ৪৮ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ব্র্যাকে ব্যাংকের ১৯ কোটি ২৭ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। ১৮ কোটি ৯৭ লাখ টাকা লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস। এছাড়া লেনদেনের শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে বেক্সিমকো, রূপালী ইনসিওরেন্স, সিঙ্গার বাংলাদেশ, নিটল ইনসিওরেন্স, ফার্স্ট বাংলাদেশ ফিক্সড ইনকাম ফান্ড, বিডি ফাইন্যান্স।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের সার্বিক মূল্য সূচক সিএএসপিআই কমেছে ১৫০ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ১৭ কোটি ১৬ লাখ টাকা। লেনদেনে অংশ নেওয়া ২৮১টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৫৩টির দাম বেড়েছে, দাম কমেছে ২০০টির এবং ২৮টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
