বেড়ে চলেছে বুঁদ হয়ে থাকা স্মার্টফোনে! সত্যি সত্যিই বদলে গেছে আমাদের জীবন। আমরা অলস হয়ে যাচ্ছি—শুধু করোনার কারণে নয়। স্মার্টফোনের কারণে পৃথিবীজুড়ে কী সংখ্যক মানুষ অলস হয়ে পড়েছে, সে হিসেব কেউ রাখে না। মানুষ অলস হয়ে যাচ্ছে—এ কথা মানতেই হবে। এই অলসতা নিষ্ক্রিয়তায়। মানুষ এখন টিভির চেয়ে মোবাইলফোনের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকে অনেক বেশি। এক গবেষণায় দেখা গেছে, গড়ে মানুষ এখন প্রতিদিন পাঁচ থেকে সাত ঘণ্টা সময় মোবাইলফোনে কাটায়। জেগে থাকা সময়ের এতটা এভাবে চলে গেলে আর বাকি কী থাকে? ২০ থেকে ৫৫ বছর বয়সীদের মধ্যে এই প্রবণতা বেশি। কিশোর-তরুণরাও পিছিয়ে নেই। যন্ত্র নিয়ে বসে থাকার নিষ্ক্রিয়তা কিন্তু শুধু মন নয়, শরীরকেও খেয়ে ফেলছে। দেখা যাচ্ছে, ৩৫-এর আগেই শরীরে ধরা পড়েছে ডায়াবেটিস এবং হার্টের অসুস্থতা। সারা পৃথিবীতে ৮০০ কোটি মানুষের মধ্যে প্রায় ৬০০ কোটি প্রাপ্তবয়স্ক। প্রাপ্তবয়স্কদের প্রতি ১১ জনের মধ্যে একজনের ডায়াবেটিস। প্রায় ৫০ কোটি মানুষ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা কিডনি থেকে শুরু করে হার্ট, অস্থি, হজমের গণ্ডগোল, অবসাদের মতো নানা সমস্যা আনছে। মানুষ জানছে, বুঝছে, তবুও বুঁদ। এই নেশা থেকে বেরিয়ে আসতে হলে যা করতে হবে—মোবাইলফোনের ব্যবহার কমানো; প্রতিদিনের পরিশ্রম বাড়ানো; ব্যায়াম করা, হাঁটা; মোবাইলফোনের স্ক্রিনের বদলে বইপুস্তক, পত্রপত্রিকা পড়া।
লিয়াকত হোসেন খোকন
রূপনগর, ঢাকা
