এমফিল/পিএইচডিধারী এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষকদের আবেদন

আপডেট : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২১:৩০

বাংলাদেশে উচ্চতর ডিগ্রিধারী (এমফিল/ পিএইচডিধারী) এমপিও শিক্ষকরা তাঁদের বিভিন্ন অধিকার থেকে বঞ্চিত। যেমন বিশেষ ইনক্রিমেন্ট না থাকা, পদোন্নতি না পাওয়া, ১০ শতাংশ সরাসরি কোটায় সরকারি কলেজে প্রবেশের পথে বাধা ইত্যাদি। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৩ সালে এই ১০ শতাংশ  সরাসরি কোটায় বেসরকারি উচ্চতর ডিগ্রিধারী শিক্ষকদের সরকারি কলেজে প্রবেশের ব্যবস্থা করেছিলেন। কিন্তু অত্যন্ত  পরিতাপের বিষয় যে,  বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতির বাধার মুখে তা ১১ বছর ধরে বন্ধ। এর  ফলে এমপিওভুক্ত উচ্চতর ডিগ্রিধারী শিক্ষকগণ একদিকে যেমন সরকারি কলেজে গিয়ে পেশাগত উন্নয়ন করতে পারেননি; অন্যদিকে সরকারিভাবে পদোন্নতিসহ পেশাগত উন্নয়নের সুযোগ না থাকায় নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও তাঁদের যথাযথ মূল্যায়ন হচ্ছে না। উল্লিখিত পরিস্থিতি বিবেচনায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ সমীপে কিছু প্রস্তাব :১. অভিশপ্ত অনুপাত প্রথা বাতিল করে সকল প্রভাষককে সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতির ব্যবস্থা; ২. এমপিওভুক্ত কলেজে সহযোগী অধ্যাপক ও অধ্যাপক পদ সৃষ্টি করে জাতীয় শিক্ষা নীতির আলোকে অনুপাত প্রথা ব্যতীত বিভিন্ন মানদণ্ডের ভিত্তিতে শিক্ষকদের পদোন্নতি; ৩. এমপিওভুক্তদের সরকারি শিক্ষকদের মতো চিকিত্সাভাতা, শিক্ষাভাতা, মূলবেতনের সমান উত্সবভাতা,  শতকরা হারে বাড়িভাড়া ইত্যাদি প্রদান; ৪. এনটিআরসিএর মাধ্যমে বা পৃথক কমিশন গঠন করে সমস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শূন্যপদে প্রতিষ্ঠান প্রধান ও উপপ্রধান হিসেবে নিয়োগ প্রদান; ৫. অধ্যক্ষ ও  উপাধ্যক্ষ নিয়োগে এমফিল ও পিএইচডি ডিগ্রিধারী শিক্ষকদের অগ্রাধিকার এবং সরকারি শিক্ষকদের মতো বিশেষ ইনক্রিমেন্ট দেওয়া;   ৬. বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের মতো অবসরের বয়সসীমা ৬৫ করা; ৭. মেধা, যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে শিক্ষা প্রশাসনের বিভিন্ন পদে ডেপুটেশনে নিয়োগদান; ৮. স্বতন্ত্র বেতনস্কেল প্রবর্তন করা; ৯. এক প্রতিষ্ঠান থেকে অন্য প্রতিষ্ঠানে বদলির নিয়ম চালু; ১০. সরকারি শিক্ষকদের মতো সত্যায়নের ক্ষমতা প্রদান।

মো. মঈনুদ্দিন চৌধুরী

সহকারী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান, ব্যবস্থাপনা বিভাগ, শংকুচাইল ডিগ্রি কলেজ, বুড়িচং, কুমিল্লা