উখিয়া খাদ্য গুদামে সরকারিভাবে বোরো মৌসুমের ধান, চাল সংগ্রহ অভিযানের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি। জানা গেছে, বাজারে ধান-চালের দাম বেশি পাওয়ায় গুদামে ধান দিতে আগ্রহী নন কৃষক। চুক্তিবদ্ধ হওয়ার পরও খাদ্য গুদামে চাল সরবরাহ করেননি অনেক মিলার। বর্ধিত সময়েও ধান, চাল সংগ্রহের অভিযানের চিত্র আশাব্যাঞ্জক নয় জানিয়ে গুদাম সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বলেন, পারিপার্শ্বিক বিভিন্ন নেতিবাচক পরিবেশের কারণে কৃষকরা তাদের উত্পাদিত ধান নিজেরা ধরে রেখেছেন। যে কারণে সময়সীমা বর্ধিত করার পরও লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে সক্ষম হয়নি।
রাজাপালং ইউনিয়নের দোছরী গ্রামের কৃষক আব্দু সালাম, রুহুল আমিন বলেন, খোলা বাজারে ধান, চালের দাম বেড়ে যাওয়ায় সেখানে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। পালংখালী ইউনিয়নের কৃষক জমির আহমদ, লোকমান হাকিম জানান, সরকার ১ হাজার ৪০ টাকা মণ দরে ধান কিনলেও ধান শুকানো, ফ্যার্নিং করা, ময়েশ্চারসহ ধান গুদামে দেওয়ার পরও তারা বিভিন্ন অজুহাত তুলে কালক্ষেপণ করে থাকে। এ সব কারণে খাদ্য গুদামে ধান দেওয়ার চাইতে খোলা বাজারে প্রতি মণ ৯০০ টাকা থেকে প্রকারভেদে মণপ্রতি হাজার টাকা পেলেও তা তাদের জন্য অনেক ভালো। উপজেলা খাদ্য গুদামের তালিকাভুক্ত মিলার ফিরোজ সওদাগর জানান, খাদ্য গুদামে ধান, চাল ক্রয় অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে করোনা ভাইরাস ও অতিবৃষ্টিতে কৃষকরা খাদ্য গুদামের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করতে পারেনি। যে কারণে মিলাররাও ধান, চাল কিনতে ব্যর্থ হয়েছে। উপজেলা খাদ্য অফিস সূত্রে জানা যায়, ৩১ মে থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত ১ হাজার ২০ টন ধানের মধ্যে ৩০৪ টন ধান ক্রয় করা হয়েছে। তাছাড়া ১ হাজার ৫০ টন ধান চাল ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও ক্রয় করা হয়েছে ৯৮৭ টন।
উপজেলা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এল এস ডি সুজিত বিহারী সেন জানান, চলমান প্রাকৃতিক দুর্যোগে সারা দেশে মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাস ও পরবর্তী ভারী বৃষ্টিতে কৃষকরা আতঙ্কিত হয়ে তাদের উত্পাদিত ধানচাল নিজেদের ব্যবস্থাপনায় রেখেছেন। এমন পরিস্থিতিতে মিলাররা তৃণমূল পর্যায়ে তাদের নির্ধারিত ধান, চাল ক্রয়ে ব্যর্থ হয়েছেন। পাশাপাশি নানা কারণে কৃষকরাও খাদ্য গুদামে ধান, চাল দিতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেছে। যে কারণে সরকারের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ধান, চাল ক্রয় সম্ভব হয়নি।
