নদীর বুকে টেক্কা গোলাম বিবি

আপডেট : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২২:১৬

মেঘনা নদীর রাতের পরিবেশ খুবই মনোহর। মাঝনদীতে জেলেদের ছোট ছোট নৌকায় হারিকেনের মিটমিট আলো। শারদরাতের মেঘমুক্ত আকাশে অগণন তারার মেলায় রুপালি চাঁদের হাসি। পানির শরীর ছুঁয়ে আসা মৃদুমন্দ হাওয়া। এমন পরিবেশ কার মন উদাস না করে? তাই অনেকে দূরদূরান্ত থেকে ছুটে আসেন প্রকৃতির কোলে কিছুটা সময় কাটাতে। তবে এমন মনকাড়া পরিবেশকেও বিষিয়ে তুলছে জুয়াড়িরা। নদীপাড়ে অর্থাত্ স্থলভাগে জুয়ার আসর বসালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা হানা দেন। তাই তাদের চোখ ফাঁকি দিতেই নৌকায় ভর। কখনো-বা মাঝনদীতে সুবিধাজনক স্থানে জুয়ার আসর বসে। তাতে শামিল হয় নানা পেশার নানা বয়সি মানুষ। চাঁদের আলোয় ওরা হাতে নেয় টেক্কা, রুহিতন, গোলাম, সাহেব, বিবি। নৌকায় চলে রাতভর জুয়াখেলা। সে আসরে কেউ জিতে হয় হিরো। কেউ হয় সর্বস্বান্ত বা জিরো। এ তো গেল নদীবক্ষের জমজমাট জুয়ার কথা। স্থলভাগও এ থেকে বাদ নেই। আড়াইহাজারের অনেক এলাকায়ই বসে নিয়মিত জুয়ার আসর। এর মধ্যে উপজেলা সদর, গোপালদী বাজার, সাতগ্রাম, বিশনন্দি, পাঁচরুখী, দড়িবিশনন্দী, দড়িবিশনন্দি নয়াপাড়া, কাদিরদিয়া, দাসেরদিয়া, জাঙ্গালিয়া ও দয়াকান্দা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষায়, প্রতিদিনই জুয়ার আসর বসলেও জুয়াড়িদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রয়োজনের তুলনায় ছিটেফোঁটা মাত্র। ফলে দিন দিন তাদের আসর জমে উঠছে। নানা পেশার লোক জুয়ায় বুঁদ হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পারিবারিক, মানসিক ও আর্থিকভাবে। বিশেষ করে উঠতি বয়সের ছেলেরা জুয়ার নেশায় মত্ত হয়ে জড়িয়ে পড়ছে নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে। তার সূত্র ধরে এলাকায় পারিবারিক অশান্তিসহ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বেড়েই চলেছে।

এলাকাবাসী জুয়া বন্ধে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। আড়াইহাজার থানার ওসি (তদন্ত) শওকত হোসেন জানান, জুয়াড়িদের বিরুদ্ধে তারা নিয়মিত অভিযান চালান এবং অব্যাহত থাকবে।