বাড়ির পাশ দিয়ে রাস্তা নেওয়ার মানসিকতার বাইরে আসতে হবে :প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২২:৩৮

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, রাস্তা নির্মাণের ক্ষেত্রে খুব সচেতন হতে হবে। অপ্রয়োজনীয় কাজ যেমন বাড়ির পাশ দিয়ে রাস্তা নেওয়া—এ ধরনের মানসিকতার বাইরে আসতে হবে। জমি সুরক্ষা করতে হবে, জলাভূমিও ঠিক রাখতে হবে। বেশি সড়ক নির্মাণ করলে জলাভূমির দেশে পানি চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়।  গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (একনেক) সভায় এ নির্দেশনা দেন তিনি। বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন তুলে ধরে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান সংবাদ সম্মেলনে বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, শুধু সড়ক নির্মাণ করলেই হবে না, এর যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে গণভবনের সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলনকক্ষে একনেক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় চারটি নতুন ও একটি প্রকল্পের সংশোধনী অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। নতুন প্রকল্পের বরাদ্দ এবং সংশোধিত প্রকল্পের বাড়তি বরাদ্দ মিলিয়ে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে  ১২৬৬ কোটি ১৩ লাখ টাকা। সভা শেষে এনইসিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, সভায় ২৪৬ কোটি ২৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ইলিশসম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় ইলিশের ছয়টি অভয়াশ্রম পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা করা হবে। ৩০ হাজার জেলে পরিবারের বিকল্প কর্মসংস্থান তৈরি করা হবে। সেই সঙ্গে ১০ হাজার জেলে পরিবারকে বৈধ জাল বিতরণ, কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে ১৮ হাজার জেলেকে প্রশিক্ষণ  দেওয়া হবে। তা ছাড়া জাটকা সংরক্ষণে অভিযান পরিচালনা করার লক্ষ্য রয়েছে।

প্রকল্পের বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য জাকির হোসেন আকন্দ সাংবাদিকদের জানান, বর্তমানে দেশে ৫ লাখ ৩৩ হাজার টন ইলিশ আহরণ করা হচ্ছে। আমাদের লক্ষ্য হলো এটিকে ৬ লাখ টনের ওপরে নিয়ে যাওয়া। পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, বিশ্বে উত্পাদিত ইলিশের ৬০ ভাগ হচ্ছে আমাদের দেশে। প্রধানমন্ত্রী এ প্রকল্পের পাশাপাশি খাঁচায় মাছ চাষ করার বিষয়ে উত্সাহিত করতে বলেছেন।

সভায় ৪০টি উপজেলায় ৪০টি কারিগরি প্রশিক্ষণকেন্দ্র এবং চট্টগ্রামে একটি ইনস্টিটিউট অব মেরিন টেকনোলজি স্থাপন শীর্ষক প্রকল্পের প্রথম সংশোধনী অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৬৬৭ কোটি ৮ লাখ টাকা। সংশোধনের কারণে প্রকল্পের ব্যয় বেড়েছে ৩৩৫ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, সরকারের লক্ষ্য হলো দেশের সব উপজেলায় কারিগরি প্রশিক্ষণকেন্দ্র গড়ে তোলা। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, করোনার প্রভাবে যারা বিদেশ থেকে কাজ হারিয়ে দেশে ফিরছেন, তাদের যথাযথ প্রশিক্ষণের আওতায় নিয়ে আসতে হবে।

সভায় অনুমোদিত অন্য প্রকল্পগুলো হলো—৩৭৬ কোটি ৫৬ লাখ টাকা ব্যয়ে জামালপুর জেলার দিগপাইত-সরিষাবাড়ী-তারাকান্দি সড়ক যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ প্রকল্প, ২৩৩ কোটি ৫২ লাখ টাকা ব্যয়ে সীমান্ত এলাকায় বিজিবির ৭৩টি কম্পোজিট/আধুনিক বর্ডার অবজারভেশন পোস্ট (বিওপি) নির্মাণ প্রকল্প, ৭৩ কোটি ৯৯ লাখ টাকা ব্যয়ে আটটি সরকারি শিশু পরিবারে ২৫ শয্যাবিশিষ্ট শান্তিনিবাস স্থাপন প্রকল্প। পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, শিশু পরিবারগুলোতে পরিবারহীন বৃদ্ধদের রাখা যায় কি না, সে বিষয়ে ২০১৮ সালে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় পরিদর্শনকালে নির্দেশনা দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। সেই আলোকে প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়েছে। 

করোনার বর্তমান সময়ে কম অগ্রাধিকার প্রকল্পে অর্থ ছাড় বন্ধ রয়েছে। এই সময়ে একনেক সভায় অনুমোদিত প্রকল্পের অর্থায়ন কীভাবে হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে পরিকল্পনা বিভাগের সচিব আসাদুল ইসলাম বলেন, সচেনতভাবেই অগ্রাধিকার প্রকল্পগুলো অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে।