উদ্বেগ ও আপাতস্বস্তির খবর

আপডেট : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২১:৪২

আমাদের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ তুলনামূলক সমৃদ্ধ হইবার নেপথ্যে রহিয়াছে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের অবদান। সেই অর্থে প্রবাসী বাংলাদেশিরা আমাদের জন্য সোনার ডিম পাড়া রাজহাঁসের মতো। প্রবাসীরা ফি বত্সর প্রায় ১৬ বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা দেশে পাঠান; কিন্তু গত মার্চ হইতে বৈশ্বিক মহামারিতে দেশে প্রায় ১ লক্ষ অভিবাসী আটকা পড়িয়াছেন। তাহাদের মধ্যে কাহারো ভিসার মেয়াদ শেষ হইবার পথে, কেহ সংশ্লিষ্ট দেশ হইতে ভিসার অ্যাপ্রুভাল আনিয়াছেন, কাহারো অবস্থা এমন যে অতিসত্বর বিদেশে যাইতে না পারিলে ভিসা বাতিল হইয়া যাইবে। এমন অবস্থায় সংযুক্ত আরব আমিরাতে বিমানের টিকিটের সমস্যা লইয়া গত মাসে ধুন্ধুমার কাণ্ড হইয়া গিয়াছিল। এইবার নূতন জটিলতা দেখা দিয়াছে সৌদি আরবগামী প্রবাসীদের। বিশেষ করিয়া যাহারা রিটার্ন টিকিট কাটিয়া বাংলাদেশে আসিয়াছিলেন, তাহারা ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সৌদি আরবে পৌঁছাইতে না পারিলে কিংবা আকামার মেয়াদ বৃদ্ধি করিতে না পারিলে কাজ এবং বৈধতা হারাইবার আশঙ্কা ছিল

প্রায় ছয় মাস বন্ধ থাকিবার পর সম্প্রতি সৌদি আরবে ফ্লাইট পরিচালনার ঘোষণা আসে। সৌদি আরব ১৫ সেপ্টেম্বর হইতে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালুর অনুমতি দিলে সৌদি এয়ারলাইনসকে সপ্তাহে দুইটি ফ্লাইট চালাইবার অনুমতি দেয় সরকার; কিন্তু বাংলাদেশ বিমানকে ফ্লাইট চালাইবার অনুমতি গতকালের পূর্ব পর্যন্ত দেয় নাই সৌদি কর্তৃপক্ষ। মুশকিল হইল, অধিকাংশ প্রবাসী বাংলাদেশিরই ফিরতি টিকিট সৌদি এয়ারলাইনস ও বাংলাদেশ বিমানে করা রহিয়াছে। ফলে বাংলাদেশ বিমানকে ফ্লাইট চালাইবার অনুমতি দেওয়ায় তাহারা ফিরতি টিকিটে এখনই সৌদি যাইতে পারিতেছিলেন না। তবে গতকাল সন্ধ্যায় সৌদি আরবের পক্ষ হইতে কিছুটা স্বস্তির খবর পাওয়া গিয়াছে। ইতিমধ্যেই বাংলাদেশের পক্ষ হইতে দেশে আটকা পড়া প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভিসার মেয়াদ তিন মাস বৃদ্ধির জন্য সৌদি আরব সরকারকে লিখিতভাবে অনুরোধ করা হইয়াছিল। গতকাল বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানাইয়াছেন, সৌদি আরব হইতে ছুটি কাটাইতে আসা বাংলাদেশিদের ভিসা এবং আকামার মেয়াদ ২৪ দিন বৃদ্ধির কথা সৌদি কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশকে জানাইয়াছে। আগামী রবিবার হইতেই সৌদি কর্তৃপক্ষ ভিসার মেয়াদ বৃদ্ধি করিয়া দিবে এবং একই সঙ্গে এই সময়ের জন্য আকামার মেয়াদও সৌদি কর্তৃপক্ষ বৃদ্ধি করিবে। ইহার পাশাপাশি সৌদি কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ বিমানের সকল ফ্লাইটকে অবতরণ করিতে দিবে এবং বাংলাদেশও সৌদি এয়ারলাইনসের সকল ফ্লাইট অবতরণ করিতে দিবে। ইহা নিঃসন্দেহে দেশে আটকা পড়া সৌদি প্রবাসীদের জন্য স্বস্তির খবর। 

মনে রাখিতে হইবে, প্রবাসীদের আয় কেবল আমাদের অর্থনীতিতেই বিশেষ অবদান রাখে না, সামাজিক স্থিতিশীলতাতেও ইহার গুরুত্ব সীমাহীন। পৃথিবীর ১৬৯টি দেশে বাংলাদেশের ১ কোটিরও অধিক মানুষ কাজ করেন। ইহার মধ্যে প্রায় ৭৫ শতাংশেরই কর্মসংস্থান মধ্যপ্রাচ্যে। ইহার পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশিদেরও যাতায়াতের ব্যাপারে সতর্ক হইতে হইবে, ভবিষ্যতে যাহাতে এই ধরনের বিপদের সম্মুখীন না হইতে হয়। সৌদি আরব বা কঠোর আইনের দেশসমূহে যাতায়াত ও অবস্থানের ক্ষেত্রে সেই দেশের আইন ও আদেশ কঠোরভাবে অনুসরণ করাই বাঞ্ছনীয়। সার্বিক অর্থেই সেইসব দেশের আইন-কানুন তাহাদের মানিয়া চলিতে হইবে।