ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা সংগ্রামের সশস্ত্র বিপ্লবী শহিদ প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার ৮৮তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ বৃহস্পতিবার। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে স্বাধীনতা আন্দোলনে প্রথম নারী শহিদ তিনি।
এ উপলক্ষ্যে আজ সকালে চট্টগ্রামের পটিয়ার ধলঘাট নিজ গ্রামে বীরকন্যা প্রীতিলতা ট্রাস্ট, চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, পটিয়া গৌরব সংসদ, সমকাল সুহূদ সমাবেশ, উত্তরাধিকারসহ বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে তার মূর্তিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করা হয়। এছাড়া আলোচনাসভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়। প্রীতিলতার জন্ম চট্টগ্রামের পটিয়ার ধলঘাট গ্রামে ১৯১১ সালের ৫ মে। তিনি চট্টগ্রামের ডা. খাস্তগীর স্কুল থেকে ১৯২৭ সালে প্রথম বিভাগে প্রবেশিকা পাশ করে ইডেন কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় সমগ্র ঢাকা বোর্ডে প্রথম স্থান অধিকার করেছিলেন। তিনি ১৯৩১ সালে কলকাতা বেথুন কলেজ থেকে দর্শনে ডিস্টিংশনসহ গ্র্যাজুয়েশন করেন এবং সে বছরই প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন চট্টগ্রামের অপর্ণাচরণ বালিকা বিদ্যালয়ে। ছাত্রজীবন থেকেই প্রীতিলতা বিপ্লবী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ঢাকার বিপ্লবী দল ‘দীপালী সংঘ’ এবং কলকাতার ‘ছাত্রী সংঘে’র সক্রিয় কর্মী ছিলেন তিনি। ১৯৩০ সালে চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার দখলের সময় প্রীতিলতা বেথুন কলেজের মেয়েদের মধ্যে একটি গোপন বিপ্লবী দল গড়ে তোলেন। প্রীতিলতা ১৯৩২ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর রাতে সূর্যসেনের নির্দেশে কয়েক জন বিপ্লবী সহযোদ্ধাসহ চট্টগ্রামের পাহাড়তলিতে অবস্থিত তত্কালীন ইউরোপিয়ান ক্লাব আক্রমণ করেন। আক্রমণ সফল হলেও ইংরেজদের গুলিতে আহত হন প্রীতিলতা এবং শত্রুর হাতে ধরা পড়ার আগেই পটাশিয়াম সায়েনাইড বিষ পান করে নিজেকে আত্মাহুতি দেন। প্রীতিলতার এই আত্মদান যুগ যুগ ধরে দেশপ্রেম আর সাহসিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে আছে।
