মনপুরায় জমা টাকা ফেরত পেতে ইনসাফ কোম্পানি লিমিটেডের অফিসের সামনে বিক্ষোভ করেছেন গ্রাহকেরা। গতকাল বুধবার সকাল ১০টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত উপজেলার হাজিরহাট ইউনিয়নের ফকিরহাট বাজারের ইনসাফ মার্কেটিং কোম্পানির অফিসের সামনে বিক্ষোভ করেন শতাধিক পুরুষ ও নারী গ্রাহক। বিক্ষোভের আগে কোম্পানির কর্মকর্তারা অফিসে তালা মেরে চলে যান।
জানা যায়, মনপুরায় শত শত নিম্ন আয়ের মানুষের কাছ থেকে দ্বিগুণ লাভের প্রলোভন দেখিয়ে মাসিক ৩০০, ৫০০ ও ১ হাজার টাকা করে ডিপিএসের নামে টাকা সংগ্রহ করে ইনসাফ মার্কেটিং লিমিটেড। কিন্তু গ্রাহকদের জমাকৃত ডিপিএসের মেয়াদ ছয় মাস থেকে বছর অতিবাহিত হলেও টাকা ফেরত দিচ্ছে না ইনসাফ। ফেরত না দিয়ে গ্রাহকের লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে ইনসাফ মার্কেটিং লিমিটেড নামের এমএলএম কোম্পানি। ইনসাফ মার্কেটিং লিমিটেড প্রথমে রিমটাচ্ নামে অফিস খোলে। কোম্পানিটি মানুষের কাছ থেকে কিস্তিতে ফ্রিজ, জাল, সেলাই মেশিন ও খাট বিক্রির নামে ভেতরে ভেতরে ডিপিএসের টাকা সংগ্রহ করত।
বিক্ষোভ চলাকালীন গ্রাহকেরা জানান, ‘আমরা খাইয়া না খাইয়া ডিপিএসের টাকা শামীম মাস্টারের কাছে দিছি। ডিপিএসের মেয়াদ ছয় মাস শেষ হইয়া গেছে, কিন্তু ওরা কোনো টাকা দেয় না। গত ছয় মাসে ১০ বার তারিখ দিছে, কিন্তু এখনো টাকা দেয়নি। গতকাল শেষ তারিখ ছিল, কিন্তু অহন অফিসে আইসা দেখি তালা মারা। এই পর্যন্ত ওরা ৮ থেকে ১০ বার তারিখ দিছে, আমাগো টাকা দেয় না। ওরা হিসাব করব কইয়া আমাগো ডিপিএসের সব কাগজপত্র লইয়া গেছে।’ এ সময় ইনসাফের বাংলাবাজার ও হাজিরহাট অফিসের কর্মকর্তা কাউছার সিকদার ও মিজানুর রহমান এলে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন গ্রাহকেরা। পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। পরে ১০ অক্টোবর সব টাকা দেবে বলে গ্রাহকদের কাছে লিখিত অঙ্গীকার করলে পরিস্থিতি ঠান্ডা হয়।
ফকিরহাট বাজারের ইনসাফ মার্কেটিং লিমিটেডের অফিসের দায়িত্বে থাকা মো. শামীম মাস্টার বলেন, ‘কর্তৃপক্ষের নির্দেশে সব গ্রাহককে গতকাল আসতে বলা হয়েছিল। কিন্তু কর্তৃপক্ষ না আসায় গ্রাহকদের পাওনা টাকা দিতে পারিনি।’ মনপুরা উপজেলা ইনসাফ মার্কেটিং লিমিটেডের মো. মহিবুল্লাহ বলেন, ‘আমি ভোলায়, তাই গ্রাহকদের পাওনা টাকা দিতে পারিনি।’ ডিপিএসের নামে টাকা সংগ্রহ করা যাবে কি না, তা জানতে চাইলে তিনি এড়িয়ে যান। বলেন, আগামী মাসের ১০ তারিখে পাওনা বুঝিয়ে দেওয়া হবে।
এ ব্যাপারে পুলিশের এসআই গৌরাঙ্গ চন্দ্র দে জানান, আগামী ১০ তারিখ গ্রাহকদের টাকা ফেরত দেওয়া হবে বলে ইনসাফের কর্মকর্তারা অঙ্গীকার করেছেন।
