পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের শিকার গৃহবধূ জান্নাতুল

আপডেট : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০০:৩০

রাজধানীর সবুজবাগে গৃহবধূ জান্নাতুল ফেরদৌসিকে (২৭) পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী তারই স্বামী হত্যা করিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন গৃহবধূর বাবা রুস্তম আলী। গতকাল বুধবার সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি করেন তিনি। গত ১৪ সেপ্টেম্বর রাতে নিজ বাসা থেকে জান্নাতুলের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ সময় হত্যাকারী বাড়ির তত্ত্বাবধায়ক মনিরকে রক্তমাখা ছুরিসহ আটক করে এলাকাবাসী। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মনির স্বীকার করে, জান্নাতুলের স্বামী মোস্তাফিজুর রহমান সোহেল তার স্ত্রীকে খুন করার জন্য মনিরকে ৫০ হাজার টাকায় ভাড়া করে।

নিহত জান্নাতুলের বাবা রুস্তম আলী জানান, সাত বছর আগে প্রেমের সম্পর্কে মোস্তাফিজুর রহমান সোহেলকে বিয়ে করে তার মেয়ে। জামাতা একটি টুরিজম কোম্পানিতে কর্মরত রয়েছে। সবুজবাগ দক্ষিণগাঁও ১০ নম্বর রোড, ৬৬/৩ নম্বর বাসায় চতুর্থ তলায় নিজেদের ফ্ল্যাটে থাকত তারা। আড়াই মাস আগে এই বাসায় ওঠে মেয়ের পরিবার। গত ১৪ সেপ্টেম্বর রাতে খবর পেয়ে আমরা ঐ বাসায় গিয়ে মেয়ের রক্তাক্ত লাশ দেখতে পাই। তার কিছুক্ষণ পরে খুনি মনিরকে চারতলার ছাদ থেকে আটক করে পুলিশ। ঐ বাসারই তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে কাজ করত সে। তিনি আরো বলেন, ঐ খুনি আমাদের কাছে স্বীকার করেছে, সোহেল ও তার ভাবি তারিকা তত্ত্বাবধায়ককে ৫০ হাজার টাকা দিয়ে ভাড়া করে জান্নাতুলকে খুন করতে। অগ্রিম হিসেবে তারা ২০ হাজার টাকাও তাকে দেয়। আগের বাসায় সোহেলের ভাবি তারিকা খানমের পাশে ফ্ল্যাটেই থাকত তার মেয়ে। সোহেলের ভাবি তারিকা জান্নাতুলকে দেখতে পারত না। ভাবির কথা শুনে মাঝেমধ্যেই জান্নাতুলের সঙ্গে ঝগড়া করত সোহেল। তবে কী কারণে তাদের মধ্যে ঝামেলা হতো—তা মেয়ে কখনোই বলতেন না। তাই আমরা নিশ্চিত স্বামী ও তার ভাবি পরিকল্পিতভাবেই মেয়েকে খুন করেছে। তা না হলে, জান্নাতুলের গলায় স্বর্ণের চেইন ও ঘরে টাকা ছিল। সব কিছুই ঠিক আছে। কিছুই নেয়নি খুনি। চুরি করতে এলে মেরে এসব নিয়ে যাওয়ার কথা।