মৌলভীবাজার-বড়লেখা আঞ্চলিক সড়কের (সড়ক ও জনপথ বিভাগের আওতাধীন) হাতলিঘাট নামক স্থানে সড়ক দেবে যাওয়ায় ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহন। গত কয়েক মাস ধরে এই অবস্থা চলছে। সড়কের দেবে যাওয়া অংশে প্রায়ই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ছোট-বড় যানবাহন উলটে যাওয়ার ঘটনা ঘটছে। গত মঙ্গলবার বিকালে সরজমিনে দেখা গেছে, দেবে যাওয়া অংশটিতে ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চলাচল করছে। পণ্যবাহী বড় ট্রাক ও যাত্রীবোঝাই দূরপাল্লার বাসের গতি কমিয়ে দিচ্ছেন চালকেরা। ট্রাকচালক বিলাল হোসেন বলেন, ‘রাস্তাটির কারণে অনেক কষ্ট হচ্ছে। গাড়ির এক সাইড নামানোর পরে নিয়ন্ত্রণ করা কষ্ট হয়ে যায়। লোড গাড়ি (মালবোঝাই) নিয়ন্ত্রণ করা কত কষ্ট আমরা বুঝি। প্রায়ই সিএনজি অটোরিকশা উলটে যায়। দ্রুত এর সমাধান দরকার।’
সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক হাফিজ উদ্দিন বলেন, ‘কয়েক মাস ধরে রাস্তা দেবেছে। হালকা যানবাহন উলটে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। খুব ঝুঁকি নিয়ে আমরা গাড়ি চালাই। দিনে দিনে রাস্তার দেবে যাওয়া বাড়ছে।’ বড়লেখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শামীম আল ইমরান মঙ্গলবার বলেন, ‘মৌলভীবাজার-বড়লেখা আঞ্চলিক সড়কের হাতলিঘাট এলাকায় সড়কের কিছু অংশ আকস্মিক নিচের দিকে দেবে গেছে। এতে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। জায়গাটি জরুরি ভিত্তিতে মেরামত প্রয়োজন। সরজমিনে গিয়ে দেবে যাওয়া জায়গাটি দেখে জেলা প্রশাসককে লিখিতভাবে জানিয়েছি এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সওজের নির্বাহী প্রকৌশলীকে চিঠি দিয়েছি।’ সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ মৌলভীবাজার কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জিয়া উদ্দিন মঙ্গলবার রাত ৯টায় মুঠোফোনে বলেন, ‘সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর মৌলভীবাজারের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি টিম দেবে যাওয়া জায়গাটি পরিদর্শন করে এসেছে। এই জায়গার অনেক নিচের মাটিতে বড় ধরনের সমস্যা আছে। ধারণা করা হচ্ছে, এজন্য সড়কের এই অংশ দেবে গেছে। এ বিষয়ে ঢাকার প্রধান কার্যালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। ঢাকা থেকে ডিজাইন টিম এসে সমস্যাটা চিহ্নিত করলে এর স্থায়ী সমাধাণ করা যাবে। যে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ করেছে, তাদের সঙ্গে কথা হয়েছে। দেবে যাওয়া এলাকায় আপত্কালীন জরুরি মেরামতের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এই এলাকায় প্রচুর বৃষ্টি হচ্ছে। বৃষ্টির জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ শুরু করতে পারছে না। দুই-এক দিনের মধ্যেই তারা সড়কের দেবে যাওয়া অংশে জরুরি মেরামতের কাজ শুরু করবে।’
