পঞ্চগড় পৌরসভায় জলাবদ্ধতায় দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন স্থানীয়রা। সামান্য বৃষ্টিতে কাদাপানিতে ভরে যায় এলাকা। জলাবদ্ধতার কারণ হিসেবে অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও খাল ভরাটের বিষয়টি উল্লেখ করেছেন পৌরবাসী। সরেজমিনে দেখা গেছে, গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে পঞ্চগড় পৌরসভার ইসলামবাগ, কায়েতপাড়া, ডোকরোপাড়া, রামেরডাঙ্গা, রাজনগর, খালপাড়া, নীমনগরসহ বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। হাটবাজারগুলোও কাদাপানিতে সয়লাব হয়ে পড়েছে। শহরের ইসলামবাগ এলাকার আরিফ হোসেন জানান, পঞ্চগড় পৌরসভার পঞ্চগড়-ঢাকা মহাসড়কের দুইপাশে যে যার মতো ঘরবাড়ি, দোকানপাট, অফিস-আদালত নির্মাণ করায় খালগুলো ভরাট হয়ে গেছে। পানির স্বাভাবিক গতিপথ পরিবর্তন হওয়ায় জলাবদ্ধতা বেড়েছে। জেলা শহরের ডোকরোপাড়া এলাকার মমিনুল হাসান জানান, অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, ড্রেনের ওপর অপরিকল্পিতভাবে ব্রিজ নির্মাণ এবং ব্রিজের মুখগুলো ছোট হওয়ায় পানির প্রবাহমান গতি কমে গিয়েও জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। পঞ্চগড় পৌরসভার কামাতপাড়া এলাকার হাসনাত হামিদুর রহমান জানান, জলাবদ্ধতার বিষয়গুলো কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। পৌর এলাকার মসজিদপাড়া এলাকার বাসিন্দা রঞ্জন কুমার জানান, বৃষ্টি শুরু হলেই আমার বাড়িসহ আশপাশের এলাকায় ড্রেনের ময়লা পানি রাস্তায় উপচে পড়ে। নিমনগড় গ্রামের ছলেমান আলী জানান, দীর্ঘদিন ধরে ড্রেনগুলো সংস্কার ও পরিষ্কার না করায় অবস্থা নাজুক হয়ে গেছে।
এম আর কলেজ রোড এলাকার আকতার হোসেন জানান, বৃষ্টি শুরু হলেই আমাদের এলাকায় পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। পঞ্চগড় পৌরসভার মেয়র মো. তৌহিদুল ইসলাম জানান, নগর উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে বড় কয়েকটি ড্রেন নির্মাণ শেষ হয়েছে। কয়েকটি ড্রেনের সমস্যার কথা স্বীকার করে তিনি জানান, পৌরবাসীদের মধ্যেও অনেকে বাড়ির ময়লা আবর্জনা ড্রেনে ফেলছেন। প্রতিদিন আমাদের পরিষ্কারকর্মীরা ড্রেন পরিষ্কার করছেন। তারপরও ড্রেনের ময়লা পানি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। আমরা পৌর কর্তৃপক্ষ আন্তরিকভাবে চেষ্টা করছি। অনেক পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়সহ অন্যান্য প্রকল্পের বরাদ্দ পেলে এসব সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হবে।
