ম্যাচ পরিস্থিতিতে মুমিনুলদের অনুশীলন

আপডেট : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২১:৩৮

ইনিংসের গোড়াপত্তন করতে নেমেছেন দুই ওপেনার তামিম ইকবাল-সাদমান ইসলাম। বল হাতে প্রস্তুত তাসকিন আহমেদ ও হাসান মাহমুদ। ফিল্ডাররাও নিজেদের অবস্থানে দাঁড়িয়ে অনেক হাঁকডাক দিচ্ছেন। উইকেটের পেছনে গ্লাভস হাতে নুরুল হাসান সোহান, স্লিপে নাজমুল শান্ত, মুমিনুল হক, নাঈম হাসান। পয়েন্টে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, কাভারে মুশফিকুর রহিম, মিড অফে মুস্তাফিজুর রহমান।

হাসানের বলটা ব্যাটে লাগাতে পারেননি সাদমান, তা দেখেই চিত্কার করে বোলারকে উত্সাহ দিচ্ছেন মুশফিক। তাসকিন বোল্ডই করলেন সাদমানকে। দৌড়ে এসে তাসকিনের সঙ্গে হাই-ফাইভ করলেন মুশফিক। তামিমরা রানের জন্য ছুঁটতেই ফিল্ডারদের দৌড়াদৌাড়ি। একবার তো রানআউটও হলেন তামিম।

পাশের নেটে দুই মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ মিঠুন ও ইয়াসির আলী রাব্বি। তাদের বোলিং করলেন রুবেল হোসেন, আল-আমিন হোসেন ও সৌম্য সরকার। উইকেটকিপার লিটন দাস, স্লিপে ইমরুল কায়েস, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, মেহেদী হাসান মিরাজ। পয়েন্টে তাইজুল ইসলাম, কাভারে খালেদ আহমেদ, মিড অফে সাইফউদ্দিন দাঁড়িয়ে।

এভাবেই ম্যাচ পরিস্থিতি বিবেচনায় গতকাল অনুশীলন করেছেন ক্রিকেটাররা। ম্যাচের আবহ তৈরির সর্বোচ্চ চেষ্টা ছিল সবার মাঝে। হেড কোচ ডমিঙ্গো, বোলিং কোচ গিবসনরা আম্পায়ারের ভূমিকায় দাঁড়িয়ে পরিচালনা করেছেন অনুশীলন।

পেস বোলারদের পর স্পিনারদের বিরুদ্ধেও ব্যাটিং করেছেন ব্যাটসম্যানরা। তামিম-সাদমানকে বোলিং করেন নাঈম-মাহমুদউল্লাহ, মিঠুন-ইয়াসিরকে তাইজুল-মিরাজ।

জুটি বেঁধে এমন অনুশীলন হয়েছে বিকাল ৫টা পর্যন্ত। ম্যাচের দৃশ্যপট তৈরি হওয়ায় ক্রিকেটাররাও বেশ উপভোগ করেছেন। মুমিনুল-শান্ত, মুশফিক-মাহমুদউল্লাহ, ইমরুল-সৌম্য, লিটন-মোসাদ্দেকদের ব্যাটিং অনুশীলনের সঙ্গে বোলাররাও ঝালিয়ে নিতে পেরেছেন নিজেদেরকে। করোনাকালে গতকালই প্রথমবার লাল বলে ম্যাচের পরিস্থিতিতে অনুশীলন করল বাংলাদেশ দল।

করোনার কারণে বাংলাদেশ দলের স্কিল ক্যাম্প হচ্ছে জৈব সুরক্ষা বলয়ের অধীনে। যেখানে আবদ্ধ হয়েই থাকতে হচ্ছে ক্রিকেটারদের। বারবার করোনা পরীক্ষা, হোটেলের বন্দিদশা থেকে মুক্তি মিলে মাঠে আসলে। অনভ্যস্ত এই পরিবেশে ধীরে ধীরে মানিয়ে নিচ্ছেন বলেই জানিয়েছেন নাজমুল শান্ত।

গতকাল অনুশীলন শেষে জৈব সুরক্ষা বলয়ে বসবাস সম্পর্কে বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান বলেছেন, ‘এটা অবশ্য অনেক কঠিন, টেস্টের কথা বলব যে করোনা টেস্ট দুই দিন পর পর এই জিনিসটা একটু অস্বস্তিকর লাগে। নাকের ভেতর কিট দেওয়া, পরীক্ষা করা এ জিনিসটা আমার জন্য অস্বস্তিকর। আর কোয়ারেন্টাইনে থাকতে কারোই ভালো লাগে না। এত সিকিউরিটির মধ্যে থাকা ভালো অনুভব করি না। কিন্তু আস্তে আস্তে মানিয়ে নিচ্ছে এবং এভাবেই অনুশীলন করতে হবে, খেলাধুলা করতে হবে। মানসিকভাবে এভাবে নিয়ে নিয়েছি। ধীরে ধীরে উপভোগ করছি।’